তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালনা পর্ষদের ২০২৫-২৭ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে রাইজিং ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাহমুদ হাসান বাবুর নেতৃত্বাধীন ফোরামের ভূমিধস বিজয় হয়েছে।
শনিবার (৩১ মে) ঢাকার র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেল ও চট্টগ্রামের র্যাডিসন ব্লু হোটেল বে ভিউ কেন্দ্রে একযোগে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলে। মোট ৩৫টি পরিচালক পদের বিপরীতে ফোরাম ৩১টিতে বিজয়ী হয়েছে।
আগামী ২ জুন এই পরিচালকরা ভোট দিয়ে সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচিত করবেন।
ফোরাম প্যানেল লিডার মাহমুদ হাসান খান সর্বোচ্চ ভোট পেতে যাচ্ছেন। রাত ১০টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গণনায় ১ হাজার ২৯০ ভোটের মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭ ভোট পেয়েছেন মাহমুদ হাসান খান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৭৭ ভোট পেয়েছেন ফোরামের আরেক প্রার্থী শাহ রিয়াদ চৌধুরী।
বিজিএমইএর ৩৫টি পরিচালক পদে নির্বাচনকেন্দ্রিক তিন জোটের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ব্যবসায়ীরা। জোট তিনটি হচ্ছে ফোরাম, সম্মিলিত পরিষদ ও ঐক্য পরিষদ। তবে ভোটে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় ফোরাম ও সম্মিলিত পরিষদের মধ্যে। এ দুই প্যানেলই ঢাকা ও চট্টগ্রামে সব পদে প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে ঐক্য পরিষদের প্রার্থী মাত্র ছয়জন। মোট প্রার্থী ছিলেন ৭৬ জন। এবার ভোটার ছিলেন ১ হাজার ৮৬৪ জন। এর মধ্যে ঢাকায় ১ হাজার ৫৬১ এবং চট্টগ্রামে ৩০৩ জন। আগেরবার মোট ভোটার ছিলেন ২ হাজার ৪৯৬ জন। এবার শুধু সচল কারখানার উদ্যোক্তারা ভোটার হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ভোটারদের প্রদত্ত ভোটের ফলাফলে নির্বাচিত হয়েছেন সম্মিলিত পরিষদের চট্টগ্রামের দলনেতা এসএম আবু তৈয়ব (১২৬ ভোট)। এছাড়া সদস্য পদে প্যাসিফিক জিন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর (১৪৮ ভোট), রাকিবুল আলম চৌধুরী (১৩৬ ভোট), মোহাম্মদ মুসা (১২৬ ভোট) জয়লাভ করেছেন। অন্যদিকে ফোরাম প্যানেলের চট্টগ্রাম অঞ্চলের দলনেতা সেলিম রহমান ১২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সদস্য পদে এম মহিউদ্দিন চৌধুরী (১৪১ ভোট), সাফিক আহমেদ সালাম (১৩৭ ভোট), মো. সাইফ উল্ল্যাহ (১২৫ ভোট) ও মির্জা মো. আকবর আলী চৌধুরী (১১৩ ভোট) পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
গত বছরের মার্চে বিজিএমইএর নির্বাচন হয়েছিল। তাতে সম্মিলিত পরিষদ সব পদে জয়ী হলেও নির্বাচন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তখন সভাপতি হন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান। এরপর ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে আর দেখা যায়নি। একপর্যায়ে এসএম মান্নানকে সরিয়ে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলামকে সভাপতি করা হয়। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। গত ২০ অক্টোবর বিভিন্ন অভিযোগে বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।