বাংলাদেশ-রাশিয়া ব্যবসায়িক সংলাপ

বাণিজ্য বাধা দূর করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব

বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিসর বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিসর বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

গতকাল রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ-রাশিয়া বিজনেস ডায়ালগ’ শীর্ষক এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করাই ছিল বৈঠকের মূল লক্ষ্য। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রত্যাশিত মাত্রায় এগোয়নি। বিদ্যমান বাধাগুলো কীভাবে কাটিয়ে বা এড়িয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো যায়, এ আলোচনা তার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।’

ফজলুল হক জানান, বৈঠকে রাশিয়ার প্রতিনিধি দল, সরকারি কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ব্যাংক, স্টক এক্সচেঞ্জ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধিরাও এতে উপস্থিত ছিলেন। এটি দুই দেশের মধ্যে একটি সাইডলাইন বৈঠক ছিল। উন্মুক্ত পরিবেশেই আলোচনা হয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ইলিয়া ও স্তাকভ। ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডারও ঢাকায় অবস্থান করছেন। এছাড়া রাশিয়ায় ব্যবসা পরিচালনাকারী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত রুশ নাগরিক সাত্তার মিয়া রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ফজলুল হক বলেন, ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল রাশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশী ও রুশ ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠন। এটি রাশিয়ার কোনো চেম্বার বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশ নয়; স্বতন্ত্র সংগঠন হিসেবে কাজ করছে।’

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী মহলের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ এখন কিছুটা অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের ব্যস্ততা ও দৌড়ঝাঁপও রয়েছে। এ কারণে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তুলনামূলক ছোট একটি প্রতিনিধি দল অংশ নিয়েছে।’

সংলাপে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের সভাপতি আব্দুল হাই সরকার, বাংলাদেশ প্লাস্টিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামীম আহমেদ, বারভিডার সভাপতি আবদুল হক, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি কামরান রহমান এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

আরও