২০২৬ সালের সিনহুয়া-বাল্টিক ইন্টারন্যাশনাল শিপিং সেন্টার ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স (আইএসসিডিআই) প্রতিবেদনে এ স্বীকৃতি পেয়েছে দেশটি। গতকাল এ বৈশ্বিক সূচকটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ১০০ নম্বরের মধ্যে সিঙ্গাপুরের স্কোর ৯৯ দশমিক ৩২। এ অনন্য অর্জনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সিঙ্গাপুরের চমৎকার ভৌগোলিক অবস্থান, উন্নত সামুদ্রিক সেবা খাত, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার এবং প্রযুক্তির আধুনিকায়নকে। সূচকটি প্রকাশের পর দেশটির খাতসংশ্লিষ্টরা বেশ আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
দেশটির সামুদ্রিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষের (এমপিএ) ৩০ বছর পূর্তির সময়েই খবরটি এল। এ মাইলফলক স্পর্শ করার পর এমপিএ এক বিবৃতিতে জানায়, এ ধারাবাহিক সাফল্য মূলত সামুদ্রিক খাতের অংশীজনদের সঙ্গে গত তিন দশকের নিবিড় অংশীদারত্বের প্রতিফলন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সামগ্রিক সেবা গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক সামুদ্রিক সম্প্রদায়ের সংযোগ ও সহযোগিতার জন্য সিঙ্গাপুর পরিণত হয়েছে একটি নির্ভরযোগ্য প্লাটফর্মে।
এমপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আং উই কিয়ং এ ঐতিহাসিক সাফল্যে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সামুদ্রিক কেন্দ্র হিসেবে আবারো স্বীকৃতি পেয়ে সিঙ্গাপুর সম্মানিত অনুভব করছে। এ গৌরব মূলত আমাদের সব ব্যবসায়িক অংশীদার এবং পুরো সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।’
সূচকে সিঙ্গাপুরের পরেই শীর্ষ পাঁচের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে অন্য বড় বৈশ্বিক বন্দরগুলো। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সাংহাইয়ের স্কোর ৮৪ দশমিক ২৭। এছাড়া ৮১ দশমিক ৮০ স্কোর নিয়ে লন্ডন তৃতীয়, ৮০ দশমিক ৮৭ স্কোর নিয়ে হংকং চতুর্থ এবং ৭৭ দশমিক ১৩ স্কোর নিয়ে দুবাই পঞ্চম স্থানে রয়েছে। সূচকটি চালুর পর থেকে প্রতি বছরই শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর।
মূলত চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাজারের তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বাল্টিক এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে প্রতি বছর এ সূচক প্রকাশ করে। বিশ্বের মোট ৪৩টি আন্তর্জাতিক শিপিং বা সামুদ্রিক বাণিজ্য কেন্দ্রকে মূল্যায়ন করে এ তালিকা তৈরি করা হয়। বন্দরগুলোর সামগ্রিক সক্ষমতা, পেশাদার সামুদ্রিক সেবা এবং ব্যবসার উপযুক্ত পরিবেশ বিবেচনা করে এ চূড়ান্ত স্কোর নির্ধারণ করা হয়। —খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস