সার্বিয়ায় শত কোটি ইউরো বিনিয়োগ করতে চায় চীন। এজন্য আলোচনা করতে সার্বিয়া সফর করছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিনিয়োগ ও সম্ভাব্য নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনাই শি জিনপিংয়ের দুদিনের সার্বিয়া সফরের লক্ষ্য। বৈঠকের আগে গতকাল চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে গার্ড অব অনার দিয়ে স্বাগত জানায় সার্বিয়া। খবর রয়টার্স।
এশিয়া ও ইউরোপের কিছু অংশজুড়ে চীনের বিশাল বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) সমর্থক সার্বিয়া। দেশটির রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার ভুসিস গতকাল তার প্রাসাদের সামনে জড়ো হওয়া হাজারো জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘আজ আমরা ইতিহাস লিখছি।’ এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। জনতা মুহুর্মুহু ‘চীন, চীন’ বলে স্লোগান দিয়েছে।
শি জিনপিং বলেন, ‘আমার এ সফর দুই দেশের সম্পর্কের"একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চলীয় ইউরোপে চীনের প্রথম কৌশলগত অংশীদার হবে সার্বিয়া।’ তিনি এ সময় ২০১৬ সালের উভয় দেশের মধ্যে সম্পাদিত কিছু চুক্তির কথা উল্লেখ করেন।
শি জিনপিংয়ের সফরটি সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে চীনা দূতাবাসে ন্যাটোর বোমা হামলার ২৫তম বার্ষিকীর সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। এটি পাঁচ বছরের মধ্যে শি জিনপিংয়ের প্রথম ইউরোপীয় সফরের অংশ। এর পর পরই তার ফ্রান্স ও হাঙ্গেরি সফর করার কথা।
সার্বিয়ার রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার ভুসিস জানান, তাইওয়ানকে চীনের অংশ বলে মনে করে সার্বিয়া। যেমন চীন মনে করে কসোভো হচ্ছে সার্বিয়ার অংশ। যদিও কসোভো ২০০৮ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে।
সার্বিয়ার অর্থমন্ত্রী সিনিসা মালি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘দুই নেতা ২৯টিরও বেশি সমঝোতা স্মারক ও কয়েকটি বাণিজ্যিক চুক্তিতে সই করবেন। এছাড়া উন্নত প্রযুক্তির প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করা হবে।’ তিনি জানান, চীনা বিনিয়োগ ও পণ্যের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ কারণে চীনা বিনিয়োগ পেতে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত অবস্থায় থাকবে সার্বিয়া।
বিশ্লেষকরা জানান, ইউরোপের দেশ হওয়া সত্ত্বেও সার্বিয়া ও হাঙ্গেরিকে রাশিয়াপন্থী বলে মনে করছেন শি জিনপিং। একই সঙ্গে দেশ দুটি ইউরোপে চীনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগের স্থান। এভাবে দেশ দুটির সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করতে চায় চীন।
এর আগে ফ্রান্স সফরের সময় শি জিনপিংকে চাপ দিয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ইইউ কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন দের লায়েন। উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধের ব্যাপারে রাশিয়াকে প্রভাবিত করবে শি জিনপিং। তখন শি জিনপিং উভয় নেতাকে এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি স্বীকার করেছিলেন যে ইউরোপে ব্যবসার ক্ষেত্রে আরো ভারসাম্য বজায় রাখবেন। তবে তিনি কথা রাখেননি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।