হিমাচলের কসমিক ক্যাফে

এত উঁচুতে আর কোনো দোকানে পাওয়া যায় না আইসক্রিম

হিমশীতল আবহাওয়ার মধ্যে আইসক্রিম বিক্রির জন্য ক্যাফেটি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

ভারতের হিমাচল প্রদেশের স্পিতি উপত্যকার লাংজা গাঁ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪ হাজার ৪২০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত গ্রামটিতে দেখা মিলবে কসমিক ক্যাফে নামে একটি আইসক্রিম শপের। বরফঢাকা পাহাড় আর হিমশীতল আবহাওয়ার মধ্যে আইসক্রিম বিক্রির জন্য ক্যাফেটি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত আইসক্রিমের দোকান।

পাহাড়ি গ্রাম লাংজায় ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের কাছে ক্যাফেটি এখন বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। চারপাশে বরফঢাকা পাহাড়, বিস্তৃত উপত্যকা আর ঠাণ্ডা আবহাওয়া। এমন পরিবেশে আইসক্রিম খাওয়ার অভিজ্ঞতা নিতে ভিড় করেন অনেক পর্যটক। বিশেষ করে তরুণদের কাছে ক্যাফেটির জনপ্রিয়তা বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভ্রমণবিষয়ক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এর পরিচিতিও বেড়েছে।

ক্যাফের কর্মীরা জানান, এখানে এক পরিবেশন আইসক্রিমের দাম প্রায় ১০০ রুপি। উচ্চতা ও আবহাওয়ার কারণে জায়গাটি অন্য সাধারণ আইসক্রিমের দোকান থেকে আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়।

কসমিক ক্যাফেতে ভ্যানিলা, বাটারস্কচ, স্ট্রবেরি ও চকোলেটের মতো বিভিন্ন স্বাদের সফট সার্ভ আইসক্রিম পাওয়া যায়। এসব আইসক্রিমের ওপর দেয়া হয় রঙিন স্প্রিংকলস। আইসক্রিমের পাশাপাশি মেনুতে রয়েছে পিৎজাসহ আরো কিছু খাবার। পর্যটকরা চাইলে স্থানীয় পানীয় সি বাকথর্নের রসও পান করতে পারেন। হিমালয়ের উঁচু অঞ্চলে জন্মানো কমলা রঙের ছোট ফল থেকে এ পানীয় তৈরি করা হয়। পুষ্টিগুণের জন্যও ফলটি পরিচিত।

ক্যাফেটির কাছেই রয়েছে একটি হোমস্টে। সেখানে রাত কাটানোর সুযোগও পান পর্যটকরা। রাতে আকাশ পরিষ্কার থাকলে অসংখ্য তারায় ভরা আকাশ দেখা যায়। পাহাড়ি পরিবেশে এমন অভিজ্ঞতা ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।

কসমিক ক্যাফের বাইরেও লাংজার রয়েছে আলাদা পরিচিতি। গ্রামটি ‘ফসিল ভিলেজ’ বা জীবাশ্মের গ্রাম হিসেবে পরিচিত। ইতিহাস বলছে, কয়েক কোটি বছর আগে বর্তমান স্পিতি অঞ্চল টেথিস সাগরের নিচে ছিল। পরে সাগরের পানি সরে যায় ও হিমালয় পর্বতমালা গঠিত হয়। সে দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের চিহ্ন এখনো ছড়িয়ে রয়েছে অঞ্চলটিতে।

গ্রামটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ পাহাড়ের ওপর স্থাপিত বিশাল বুদ্ধমূর্তি। সোনালি রঙে সাজানো মূর্তিটি দাঁড়িয়ে আছে উপত্যকার দিকে মুখ করে। দূর থেকে দেখা যায় এর অবস্থান। পাহাড়, জীবাশ্ম ও বুদ্ধমূর্তি—সব মিলিয়ে লাংজা পর্যটকদের জন্য ভিন্নধর্মী গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

খবর এনডিটিভি

আরও