সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ৬৫ হাজার ৭৭৮ টন ফল আমদানি হয়েছে। যেখান থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ২২৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ভোমরা বন্দর দিয়ে ১২ মাসই নানা ধরনের ফল আমদানি হয়। এর মধ্যে আপেল, আঙ্গুর, নাসপাতি, বেদানা, মাল্টা, কমলা, আনার ও চেরি ফল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে ফল আমদানি কমেছে। গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত ২০ শতাংশ আমদানি কমেছে।
এর আগে গত অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে এ বন্দর দিয়ে ৮৬ হাজার ৭৬৭ টন ফল আমদানি হয়েছিল। সে সময় এ থেকে সরকার রাজস্ব আদায় করেছিল ২৯৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের অন্যান্য বন্দরের তুলনায় ভোমরা বন্দরে ফল আমদানিতে অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করায় আমদানি কমে যাচ্ছে। এসব ব্যবসায়ী ফল আমদানিতে ভোমরা বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে দেশের অন্যান্য বন্দরে চলে যাচ্ছেন বলে মনে করেন তারা।
ভোমরা স্থলবন্দরের অন্যতম ফল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রোহিত ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী রামকৃষ্ণ চক্রবর্তী জানান, তার এজেন্টের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আমদানিকারকরা ভোমরা বন্দর দিয়ে ফল আমদানি করেন। কিন্তু চলতি অর্থবছরে তার প্রতিষ্ঠানের ফল আমদানি ব্যাপক হারে কমে গেছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য বন্দরের তুলনায় ভোমরা বন্দরে ফল আমদানিতে চরম বৈষম্য করা হয়। পার্শ্ববর্তী বেনাপোল বন্দরে এক ট্রাক ফল আমদানি করলে পচন ছাড় বা ডিউটি মওকুফ করা হয় আড়াই থেকে তিন টন। কিন্তু ভোমরা বন্দরে ফল আমদানিতে ব্যবসায়ীদের কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হয় না। ফলে পণ্যটির আমদানি কমে গেছে।
তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোমরা বন্দর দিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে যেখানে প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে আট ট্রাক ফল আমদানি হয়েছে। সেখানে এখন প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দুই ট্রাক ফল আসছে।
ফল আমদানির ক্ষেত্রে একই ধরনের বৈষ্যমের অভিযোগ করেন ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম। তিনি বলেন, ফল আমদানি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো ব্যবসায়ীদের কোনো প্রকার ছাড় না দেয়া। কিন্তু পচনশীল পণ্য হিসেবে দেশের অন্য সব বন্দরে প্রতি ফলের ট্রাকে আড়াই থেকে তিন টন পর্যন্ত ডিউটি ছাড় দেয়া হয়। কিন্তু ভোমরা বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের ফল আমদানিতে চরম বৈষম্য করা হচ্ছে। এখানে কোনো প্রকার ছাড় দেয়া হয় না। যে কারণে ফল আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা ভোমরা বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে দেশের অন্যান্য বন্দর দিয়ে ফল আমদানি করছেন।
তবে সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী স্বচ্ছতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে বলে জানান ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, এখানে কোনো প্রকার অবৈধ সুযোগ-সুবিধা কেউ যেন না নিতে পারে, সে ব্যাপারে শুল্ক স্টেশনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ভোমরা বন্দর দিয়ে ফল আমদানিতে বৈষম্য করা হচ্ছে—ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দরের কার্যক্রম চলছে।