বিশ্বের বড় দুটি ক্রিপ্টো প্লাটফর্মে সাইবার হামলার ঘটনায় ডিজিটাল সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি বাইন্যান্সে হামলার ঘটনায় গ্রাহকদের প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ইতিহাসে এটিকে সবচেয়ে বড় ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করছেন সাইবার সিকিউরিটি বিশ্লেষকরা। একই দিন পূর্বাভাসভিত্তিক লেনদেনের প্লাটফর্ম পলিমার্কেটেও সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ব্যবহারকারীদের ওয়ালেট থেকে অন্তত ২৭ লাখ ডলারের সম্পদ সরিয়ে নেয়া হয়। খবর সিএনবিসি।
বাইন্যান্সে বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের এ ঘটনা ঘটে। একই দিন তৃতীয় পক্ষের একটি তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর সাইবার হামলার পর পলিমার্কেট আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে সাময়িকভাবে লেনদেন বন্ধ রাখে। পলিগন ব্লকচেইনে পরিচালিত এ প্লাটফর্মের ব্যবহারকারীদের ওয়ালেট থেকে অর্থ সরিয়ে নেয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রিপ্টো খাতে এ ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা অপ্রত্যাশিত নয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সাইবার হামলার ধরন ও ঝুঁকি বদলাচ্ছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে এ ধরনের ঘটনা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে অর্থ জমা রাখার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের তুলসা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের অধ্যাপক টাইলার মুর। তিনি বলেন, ‘এসব প্লাটফর্মে বড় অংকের অর্থ রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ সাইবার হামলায় অর্থ হারালে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মতো গ্রাহকদের সুরক্ষা পাওয়ার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নিশ্চয়তা নেই।’
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকে রাখা গ্রাহকের আমানত সুরক্ষায় ফেডারেল ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন (এফডিআইসি) কাজ করে। কোনো ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আমানতের নিশ্চয়তা দেয় সংস্থাটি। কিন্তু ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জে রাখা অর্থ সাইবার হামলায় হারালে এ ধরনের সরকারি বীমা বা সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই।
অবশ্য বাইন্যান্স ও পলিমার্কেট—দুই প্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে।