বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রায় ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে অ্যাপারেল ইমপ্যাক্ট ইনস্টিটিউট (এআইআই)। এ লক্ষ্যে পোশাক খাতে নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।
বাংলাদেশের পোশাক খাতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর নিয়ে গতকাল এক উচ্চ পর্যায়ের গোলটেবিল আলোচনায় এ তথ্য উঠে আসে। এইচএসবিসি বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), বাংলাদেশে অবস্থিত সুইডিশ দূতাবাস ও অ্যাপারেল ইমপ্যাক্ট ইনস্টিটিউট যৌথভাবে ‘পরিবর্তনশীল জ্বালানি প্রেক্ষাপটে পোশাক খাতে কার্বনমুক্তকরণের অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক এ আলোচনার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ইইউর রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও জাতিসংঘ উইংয়ের প্রধান একেএম সোহেল, সুইডিশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ওলে লুনদিন, এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. সারওয়ার হোসেইন এবং বিজিএমইএর সহসভাপতি বিদ্যা খান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া এআইআইয়ের ক্রিস্টিনা এলিন্ডার লিল্হাস, এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপের কিম হেলস্ট্রম ও অলিভিয়া উইন্ডহাম স্টুয়ার্টসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, ‘ইউরোপীয় বাজার ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা যখন সীমিত কার্বন ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে, তখন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা ধরে রাখতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার জরুরি।’
এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, ‘সহায়ক নীতি, উন্নয়নশীল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের মাধ্যমে বেসরকারি মূলধন আকৃষ্ট করাই ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতার মূল চালিকাশক্তি হবে।’ মূল বক্তব্য অধিবেশনে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরেন এআইআইয়ের ক্রিস্টিনা এলিন্ডার লিলহাস। আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।