কোম্পানি তিনটি হলো চাঁদপুর পাওয়ার জেনারেশনস লিমিটেড (সিপিজিএল), ঢাকা নর্দার্ন পাওয়ার জেনারেশনস লিমিটেড (ডিএনপিজিএল) ও ঢাকা সাউদার্ন পাওয়ার জেনারেশনস লিমিটেড (ডিএসপিজিএল)। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ৭ জুন অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় একীভূতকরণের (মার্জার) প্রস্তাবিত স্কিম অনুমোদন করা হয়। এ একীভূতকরণ ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার আলোকে সম্পন্ন করা হবে।
প্রস্তাবিত একীভূতকরণ স্কিম কার্যকর হতে হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারহোল্ডার ও ঋণদাতাদের অনুমোদনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সম্মতি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় সাবসিডিয়ারি কোম্পানি তিনটির সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডাররের সঙ্গে ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের শেয়ার বিনিময়ের পরিবর্তে নগদ অর্থের মাধ্যমে তা সম্পন্ন করা হবে। এর ফলে ডোরিন পাওয়ারের বিদ্যমান শেয়ারধারণ কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে।
এ একীভূতকরণের উদ্দেশ্য হলো সব কার্যক্রম ও পরিচালন সম্পদ একটি একক প্রতিষ্ঠানের আওতায় এনে আরো দক্ষ ও টেকসই ব্যবসায়িক কাঠামো গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যবস্থাপনায় তদারকি শক্তিশালীকরণ, প্রশাসনিক ও কমপ্লায়েন্স ব্যয় কমবে বলে আশা করছে কোম্পানিটি। এছাড়া বিদ্যমান শেয়ারধারণ কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরিতে এ একীভূতকরণ সহায়ক হবে বলে মনে করছে ডরিন পাওয়ার।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) ডরিন পাওয়ারের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ১৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ টাকা ৫ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৬ টাকা ২৬ পয়সায়।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে শুধু সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ডরিন পাওয়ারের ইপিএস ৩ টাকা ১৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৮১ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫২ টাকা ৪৩ পয়সায়।
২০২৩-২৪ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ডরিন পাওয়ারের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৮১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৫৬ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৫৭ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ডরিন পাওয়ারের ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৫৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৯ টাকা ২১ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকা ৪৭ পয়সায়।
ডরিন পাওয়ারের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-৩’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি (সিআরআইএসএল)।
২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ডরিন পাওয়ারের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৮১ কোটি ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৭৩২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৮ কোটি ১১ লাখ ১৮ হাজার ৯০১। এর ৬৬ দশমিক ৬১ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৮ দশমিক শূন্য ৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বাকি ১৫ দশমিক ৩২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।