ফেব্রুয়ারিতে জাপানে চকোলেটের চাহিদা তুঙ্গে

বেতন বৃদ্ধি স্থবির থাকার এ সময়ে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় অনেক বেশি উদ্বিগ্ন জাপানের ভোক্তারা। তার পরও চাহিদা কমেনি চকোলেটের, বরং বেড়েছে।

বেতন বৃদ্ধি স্থবির থাকার এ সময়ে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় অনেক বেশি উদ্বিগ্ন জাপানের ভোক্তারা। তার পরও চাহিদা কমেনি চকোলেটের, বরং বেড়েছে। ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে জাপানের চকোলেট ব্যবসা তুঙ্গে। খবর মাইনিচি।

অন্যান্য বেশকিছু খাবারের মতো চকোলেটের দামও বাড়তির দিকে। বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিতে চকোলেট বানাতে যেসব উপাদান ব্যবহার হয় যেমন কোকো ও চিনি, আরো বেশি দামি হয়ে যাচ্ছে। একটি গবেষণা ইনস্টিটিউটের জরিপ বলছে, এক বছর আগেও এক টুকরো চকোলেটের যে দাম ছিল এখন তা বেড়েছে ৭ শতাংশ। বিদেশী বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের চকোলেটের প্রতি অনেকের আকর্ষণ রয়েছে, জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ডলারের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে সেগুলোরও।

ফেব্রুয়ারিতে সাধারণত জাপানে চকোলেটের চাহিদা বেড়ে যায়। কারণ এই সময় অনেকে তাদের ভালোবাসার মানুষ অথবা বন্ধুকে উপহার দেয়ার জন্য চকোলেট কেনে। চকোলেটের জন্য এ মাসে গড় পারিবারিক ব্যয় বেশ খানিকটা বেড়ে যায়। এমনকি কভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেও তা অনেক বেশি হয়ে ১ হাজার ২০০ ইয়েন বা ৯ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়, যা অন্যান্য মাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বলে উঠে এসেছে সরকারি তথ্যে। মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় উৎপাদন খরচ বাড়ায় পণ্যের দাম বাড়ানো প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও এখন বাড়ছে। ডিসেম্বরে জাপানে ভোক্তামূল্য বেড়েছে আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ, যা চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এতে ব্যাংক অব জাপানের ওপর কোনো পদক্ষেপ নেয়ার জন্য চাপ তৈরি হয়েছে। তবে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়ার তাড়া দেখায়নি। সেই সঙ্গে তারা বলছে, এই বাড়তি মূল্য দিতে হচ্ছে জ্বালানি, কাঁচামাল ও অন্যান্য আমদানি করা পণ্যর দাম বেড়ে যাওয়ায়। এ ধারা আর বেশিদিন থাকবে না বলে বিশ্বাস ব্যাংকটির।

এদিকে ডলারের বিপরীতে কমে গেছে ইয়েনের বিনিময় মূল্য। আমদানি করা চকোলেট ব্র্যান্ডগুলোর দাম এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে ৩৩ ইয়েন। যেটা স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বলে জানিয়েছে তেইকোকু ডাটাব্যাংক লিমিটেড।

অনেকের ভয় ছিল মূল্যস্ফীতির এই সময়ে অনেকেই অতিরিক্ত ব্যয় থেকে বিরত থাকবে, কিন্তু আসলে মানুষ কভিড-১৯-এর সময়ে যা কিছু করতে পারেনি,  তা এখন মিস করতে চায় না। তাতে সেটা ঘুরতে যাওয়াই হোক, বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে খাওয়া হোক বা কোনো বিনোদন উপভোগ করা। তারই অংশ ভালোবাসা দিবসের এসব পরিকল্পনা।

আরও