ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি কমার পূর্বাভাস

যুক্তরাষ্ট্রে গত ফেব্রুয়ারিতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি অনেকটাই ধীর হয়ে আসার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্যসেবা খাতে নিয়োগের হার স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসা এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে নিয়োগের গতি কমলেও বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৩ শতাংশে স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্স পরিচালিত এক জরিপে অর্থনীতিবিদরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

২০২৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তায় শ্রমবাজার কিছুটা হোঁচট খেয়েছিল। নতুন প্রতিবেদনে বাজার স্থিতিশীল হওয়ার একটি চিত্র পাওয়া যেতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ার যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহার কমানোর ক্ষেত্রে এখনই কোনো তাড়াহুড়ো করবে না।

মোটরযান চালকদের স্বার্থরক্ষা ও পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা এএএর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন খুচরা জ্বালানি তেলের দাম ২০ সেন্টের বেশি বেড়েছে। এতে সাধারণ ভোক্তাদের হাতে অন্যান্য পণ্য বা সেবা কেনার মতো বাড়তি অর্থ কমে যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাত একটি বড় আকারের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। আর এমন দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

পিএনসি ফাইন্যান্সিয়ালের প্রধান অর্থনীতিবিদ গাস ফাউচার বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের শ্রমবাজার বেশ শক্ত অবস্থানে আছে। তবে এটি ২০২৩ বা ২৪ সালের মতো অতটা ভালো অবস্থায় নেই। যুদ্ধ নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিলেন, এখন সে সতর্কতা আরো বাড়তে পারে। ফলে বর্তমান অর্থনীতি এক ধরনের নাজুক অবস্থায় রয়েছে।’

রয়টার্সের এক জরিপে অর্থনীতিবিদরা পূর্বাভাস দিয়েছেন যে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষি খাত বাদে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ৫৯ হাজার। জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার। মূলত স্বাস্থ্যসেবা খাতে নিয়োগ কমে যাওয়া এবং ক্যালিফোর্নিয়া ও হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের ৩১ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর ধর্মঘটের কারণে নতুন নিয়োগের সংখ্যা এত নিচে নেমে এসেছে।

মর্গ্যান স্ট্যানলির প্রধান অর্থনীতিবিদ মাইকেল গ্যাপেন বলেন, ‘কর্মসংস্থান বাড়ার এ ধীরগতি কিন্তু অর্থনৈতিক মন্দার সংকেত নয়।’

আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের মতো কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রভাবে এমনটি ঘটছে।’

অন্যদিকে সরকারি শাটডাউনের কারণে ঝুলে থাকা নতুন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত তথ্যও প্রকাশ করবে বিএলএস। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থানের কারণে ২০২৫ সালে শ্রমশক্তির জোগান যতটা ভাবা হয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়ে কম ছিল। শ্রমশক্তির এ ঘাটতিও বাজার ধীর হওয়ার অন্যতম কারণ।

ব্যাংক অব আমেরিকা সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ শ্রুতি মিশ্র জানান, নতুন এ তথ্যগুলো বেকারত্বের হার বা শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হারে খুব সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে। ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সভায় নীতিনির্ধারকরা নীতি সুদহার ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের ঘরেই অপরিবর্তিত রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও