অর্থ সাশ্রয় ও ই-বর্জ্য কমানোর তাগিদ

বিশ্বজুড়ে সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপের চাহিদা বাড়ছে

একটা সময় ছিল যখন ব্যবহৃত বা ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’ ল্যাপটপকে পুরনো, ধীরগতির কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ কোনো যন্ত্র মনে করা হতো।

তবে সময়ের সঙ্গে সে ধারণা দ্রুত পাল্টেছে। শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সার বা রিমোট কর্মীদের কাছে সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপের গ্রহণযোগ্যতা এখন তুঙ্গে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কনটেক্সটের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর গিজচায়না।

ল্যাপটপসহ যেকোনো ডিভাইস ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের আকাশচুম্বী দাম এ পরিবর্তনের অন্যতম কারণ। ভালো মানের নতুন একটি ল্যাপটপের দাম এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। র‍্যামের সংকট এবং যন্ত্রাংশের উচ্চমূল্যের কারণে মাঝারি মানের একটি ল্যাপটপের দাম বর্তমানে ৯০০ ডলারের বেশি (বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ টাকার ওপর)। এমনকি সাধারণ মানের ল্যাপটপগুলোর প্রারম্ভিক মূল্য এখন ৬০০ ডলারের কাছাকাছি।

নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে থাকা ক্রেতাদের জন্য নতুন ল্যাপটপ কেনা তাই বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এর বিপরীতে, ব্যবহৃত বা রিফারবিশড ল্যাপটপগুলো অনেক কম খরচে প্রায় একই মানের কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে অসংখ্য দোকান ও অনলাইন প্লাটফর্ম সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপ নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সনদ প্রদানের মাধ্যমে পুনরায় বিক্রি করছে। ফলে গুণগত মান নিয়ে ক্রেতাদের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে গেছে। মাত্র এক বা দুই বছরের পুরনো একটি ল্যাপটপ দৈনন্দিন সব কাজে অনায়াসেই ভালো পারফরম্যান্স দিচ্ছে এবং দেখতেও নতুনের মতো। মূলত সাশ্রয়ী হওয়ার কারণে বাজারটি দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে।

কনটেক্সটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ইতালি, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, স্পেন ও ফ্রান্সে রিফারবিশড ল্যাপটপের বিক্রি ৭ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে যুক্তরাজ্যে। ২০২৫ সালে দেশটিতে এ ধরনের ল্যাপটপের বিক্রি দ্বিগুণ হয়েছে, যা জার্মানিকে পেছনে ফেলে যুক্তরাজ্যকে এ খাতের বৃহত্তম বাজারে পরিণত করেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ১০টি রিফারবিশড ল্যাপটপের মধ্যে প্রায় চারটিই প্রায় ২৫০-৩৫০ ডলারের মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। সীমিত বাজেটের মধ্যে একটি নির্ভরযোগ্য কম্পিউটার খোঁজা শিক্ষার্থী ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মূল্যসীমাটি উপযুক্ত। অন্যদিকে এ দামের ল্যাপটপগুলোর বাজার হিস্যা গত ১২ মাসে ১৫ থেকে বেড়ে ২৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

আরও