ইমিগ্রেশন চালুর দাবি ব্যবসায়ীদের

পাথর-কয়লা আমদানিতে সীমাবদ্ধ সোনাহাট স্থলবন্দরের কার্যক্রম

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সাতটি অঙ্গরাজ্যের সড়কপথে পণ্য পরিবহনে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দর।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সাতটি অঙ্গরাজ্যের সড়কপথে পণ্য পরিবহনে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দর। আগে বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর, কয়লা, তাজা ফল, ভুট্টা, গম, চাল, ডাল, রসুন, আদা পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি হতো। কিন্তু বর্তমানে পাথর কয়লা ছাড়া অন্যসব পণ্য আমদানি বন্ধ রয়েছে। বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে কোনো পণ্য রফতানিও করছেন না ব্যবসায়ীরা। বন্দরে নেই ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাও। ফলে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি সরকারও প্রত্যাশিত রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বন্দরে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন।

২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর দেশের ১৮তম স্থলবন্দর হিসেবে চালু হয় সোনাহাট স্থলবন্দর। এখান থেকে বছরে আয় হচ্ছে প্রায় ১২ কোটি টাকা। তবে ইমিগ্রেশন চালু না থাকায় সংকটের কথা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া মাঝেমধ্যেই আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রায় তিন হাজার শ্রমিক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজস্ব আয়ের জন্য বিপুল সম্ভাবনাময় বন্দর হতে পারে এটি। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকলেও শুধু ইমিগ্রেশন চালু না থাকায় বাড়ছে না আমদানি-রফতানি কার্যক্রম।

কুড়িগ্রাম থেকে ভুরুঙ্গামারী সোনাহাট পর্যন্ত বন্দরকেন্দ্রিক জাতীয় মহাসড়ক নির্মাণের কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত সোনাহাট বেইলি ব্রিজের পাশে সেতু নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। এক দফা সময় বাড়িয়েও এখনো শেষ হয়নি ২০০ কোটি টাকার সেতুর ৩০ শতাংশ কাজ। ফলে মালবাহী ট্রাকের যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থলপথে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সহজতর করার লক্ষ্যে ২০১২ সালের ২৫ অক্টোবর শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর ঘোষণা করা হয়। ২০১৩ সালে স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। সড়কপথে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম জেলা সদরের দূরত্ব ৩৫১ কিলোমিটার এবং জেলা সদর থেকে সোনাহাট স্থলবন্দরের দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার। সোনাহাট স্থলবন্দরে হ্যান্ডলিং শ্রমিক রয়েছেন তিন হাজারের বেশি, জমির পরিমাণ ১৪ দশমিক ৬৮ একর, পণ্য ধারণক্ষমতা ৬০০ টন।

বন্দরে ৩৯ কোটি ৪৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোর মধ্যে হাজার ২০৮ বর্গমিটারের একটি ওয়্যারহাউজ, একটি ১৩ হাজার বর্গমিটার ওপেন স্ট্যাক ইয়ার্ড, দুটি ওয়েব্রিজ স্কেল, একটি প্রশাসনিক ভবন, একটি ব্যারাক হাউজ, একটি ডরমিটরি ভবন, দুটি টয়লেট কমপ্লেক্স ওয়াচ টাওয়ার অন্যতম।

সোনাহাট স্থলবন্দর ব্যবহার করে আসাম, মেঘালয়, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা অরুণাচলের সঙ্গে সড়কপথে বাণিজ্য সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ভারত থেকে পণ্য পরিবহনে ৪০০ কিলোমিটার পথ সাশ্রয় হওয়ায় উভয় দেশের ব্যবসায়ীদেরই লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ইমিগ্রেশন চালু হলে পর্যটন পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখবে বন্দর।

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের বানুরকুটি গ্রামে আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ১০০৯-এর কাছে বন্দর অবস্থিত। এটি ব্রিটিশ আমলে একটি বাণিজ্যিক বন্দর সমৃদ্ধ শহর ছিল। ব্রিটিশ আমলে বর্তমান বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আসাম, মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা, অরুণাচল মেঘালয় রাজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত ছিল এটি। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর রুটগুলো বন্ধ হয়ে গেলে বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

ব্যবসায়ী সাকিল আহমেদ জানান, শুধু ইমিগ্রেশন না থাকায় ৪৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দেখা করতে হয়। এতে অনেক সময় ব্যবসায়িক জরুরি আলাপ সম্ভব হয় না।

সোনাহাট স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক জানান, ইমিগ্রেশন চালু হলে ভারতের সেভেন সিস্টার্সসহ ভুটানের সঙ্গে যোগাযোগে সুবিধা হবে উত্তরাঞ্চলের মানুষের।

বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সরকার রাকীব আহমেদ জুয়েল জানান, ইমিগ্রেশন চালুসহ সেতু নির্মাণ সড়কের কাজ শেষ হলে বন্দরে দ্রুত ব্যবসার প্রসার ঘটবে। রাজস্ব আয়ও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম জানান, সোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালুর ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে যা প্রয়োজন অবিলম্বে তা করা হবে।

বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, সোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালুর সিদ্ধান্ত হলে বন্দরের পক্ষ থেকে প্যাসেঞ্জার টার্মিনালসহ প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

আরও