হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর খাদ্যশস্য আমদানি ঝুঁকিতে

গত বছর উপসাগরীয় দেশগুলো প্রায় ৩ কোটি টন খাদ্যশস্য আমদানি করেছে। এর মধ্যে ইরানের হিস্যা ১ কোটি ৪০ লাখ টন। কমোডিটি অ্যানালিটিকস কোম্পানি কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এ শস্যের বড় অংশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে। বর্তমানে এ পথে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় অঞ্চলটির খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য প্রধান জীবনরেখা হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী। বর্তমানে এ জাহাজ চলাচলের পথে অস্থিরতার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যশস্য আমদানি হুমকির মুখে পড়েছে। অনেক জাহাজ এ পথ এড়িয়ে চলায় পুরো অঞ্চলে খাদ্যঘাটতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে ইরানের বাজারে আগে থেকেই চড়া থাকা খাদ্যের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর এফটি।

গত বছর উপসাগরীয় দেশগুলো প্রায় ৩ কোটি টন খাদ্যশস্য আমদানি করেছে। এর মধ্যে ইরানের হিস্যা ১ কোটি ৪০ লাখ টন। কমোডিটি অ্যানালিটিকস কোম্পানি কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এ শস্যের বড় অংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে। বর্তমানে এ পথে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় অঞ্চলটির খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

কেপলারের বিশ্লেষক ঈশান ভানু জানান, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইরান বড় ধরনের খাদ্য সংকটে পড়বে। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ সরবরাহ চেইন এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হলে পরিস্থিতি আরো জটিল হবে।

নেদারল্যান্ডসের লাইডেন ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ক্রিশ্চিয়ান হেন্ডারসন বলেন, ‘এ অঞ্চলে বর্তমানে খাদ্য অনিরাপত্তার তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো খাদ্যপণ্যের জন্য আমদানির ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল। সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা ইয়েমেন, সুদান ও সোমালিয়ার মতো দেশগুলোও খাদ্যঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধির মুখে পড়তে পারে।’

ইরান বর্তমানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরানের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৯ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়া মাসে দেশটিতে খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হার ১০৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরান সরকার সব ধরনের কৃষি পণ্য রফতানি নিষিদ্ধ করেছে। দেশটির কৃষিমন্ত্রী গোলামরেজা নুরি-ঘেজেলজেহ নাগরিকদের আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য না কেনার অনুরোধ জানিয়েছেন।

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ধনী রাষ্ট্রগুলোর বাড়তি আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা রয়েছে। তবে কুয়েত, কাতার ও বাহরাইন এ ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ দেশগুলোর নিজস্ব কোনো গভীর সমুদ্রবন্দর নেই। ফলে খাদ্য সরবরাহের জন্য রাষ্ট্রগুলো সৌদি আরব ও আমিরাতের রুটগুলোর ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর বিকল্প পথ খুঁজছে। সৌদি আরব লোহিত সাগরের বন্দরগুলো ব্যবহারের সুযোগ পেলেও অন্যদের জন্য এ সুযোগ সীমিত। দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরের বিকল্প হিসেবে ফুজাইরাকে ভাবা হচ্ছে। তবে ফুজাইরা মূলত জ্বালানি ও সার রফতানির জন্য তৈরি। ফলে সেখানে জেবেল আলীর মতো বিশাল কন্টেইনার হ্যান্ডেল করার সক্ষমতা নেই। বিশ্লেষকদের মতে, এ সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিকল্প পথে খাদ্য আমদানির খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে।

আরও