বিশ্ববাজারে দাম কমেছে অ্যালুমিনিয়ামের

মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম (ইজিএ) জানিয়েছে, সাড়ে তিন মাস বন্ধ থাকার পর অ্যালুমিনা রিফাইনারিটি আবার উৎপাদনে ফিরেছে। এ ঘটনাকে উপসাগরীয় অঞ্চলে ধাতুটির উৎপাদন আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসার একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা

আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যালুমিনিয়ামের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-এর একটি বড় পরিশোধনাগার পুনরায় চালু হওয়ার খবরে এ দরপতন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম (ইজিএ) জানিয়েছে, সাড়ে তিন মাস বন্ধ থাকার পর অ্যালুমিনা রিফাইনারিটি আবার উৎপাদনে ফিরেছে। এ ঘটনাকে উপসাগরীয় অঞ্চলে ধাতুটির উৎপাদন আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসার একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) তিন মাস মেয়াদি অ্যালুমিনিয়ামের বাজার আদর্শ মূল্য ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি টন ৩ হাজার ১৪৩ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে এসেছে। গত সপ্তাহের শেষ লেনদেনের শুরুর দিকে ধাতুটির দাম প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। তবে এ বড় পতনের পরও সপ্তাহের ব্যবধানে অ্যালুমিনিয়ামের সামগ্রিক দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এর মাধ্যমে টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা দরপতনের অবসান ঘটল। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার আশায় দাম কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে দাম বাড়ার সুযোগে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ধাতু বিক্রি করে দিতে বেশি আগ্রহী ছিলেন। কারণ তারা ধারণা করেছেন, বিশ্ববাজারে অ্যালুমিনিয়ামের সরবরাহ আগামীতে আরো বাড়বে। মধ্যপ্রাচ্যে উৎপাদন শুরু হওয়ার পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার নতুন পরিশোধনাগারগুলো থেকেও উৎপাদন ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এ দেশের একটি নতুন শোধনাগার গত মাস থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অ্যালুমিনিয়াম রফতানি শুরু করেছে।

ইজিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আল তাউইলাহ পরিশোধনাগারের উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ শতাংশে উন্নীত হবে। অ্যালুমিনিয়াম তৈরির মূল কাঁচামাল হলো এ অ্যালুমিনা। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ পরিশোধনাগারের উৎপাদন পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক বাজারে এ পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে এখনো বড় ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পণ্য পরিবহনের বিষয়টি এখনো বেশ অনিশ্চিত।

এদিকে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জের নিবন্ধিত গুদামগুলোয় অ্যালুমিনিয়ামের মজুদ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পর এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। মজুদের এ ঘাটতি বিশ্ববাজারে বর্তমানে ধাতুটির তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্য শিল্প ধাতুর বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। তামার দাম দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ১৩ হাজার ৪৯৫ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে, যা সপ্তাহ শেষে ১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে। একই সময় সাংহাই ফিউচার এক্সচেঞ্জে তামার মজুদ ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ কমে গত ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এর বাইরে সিসার দাম দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৯৬ ডলার এবং নিকেলের দাম দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১৬ হাজার ৭৩৫ ডলারে পৌঁছেছে। প্রধান উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়ায় সালফারের ঘাটতির কারণে নিকেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। অন্যদিকে টিনের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৫৩ হাজার ৪০৫ ডলার এবং দস্তার দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৬১৪ ডলার ৫০ সেন্টে নেমেছে।

আরও