ঈদের পর পুঁজিবাজারের সূচক ও লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখিতা

ঈদুল ফিতরের ছুটির কারণে টানা সাতদিন বন্ধ ছিল দেশের পুঁজিবাজার।

ছুটি শেষে গতকাল পুঁজিবাজার চালুর প্রথম দিনেই সূচক ও লেনদেনে ঊর্ধ্বমুখিতা পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স এদিন দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির দৈনিক লেনদেন বেড়েছে ১৭ শতাংশ। দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গতকাল সূচকের পাশাপাশি লেনদেন বেড়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেন শুরুর পর থেকেই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে ছিল পুঁজিবাজার। দিন শেষে ডিএসইএক্স সূচক প্রায় ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩৭৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ৩৩৬ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে প্রায় ১৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৪৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ৩১ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস এদিন ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৮২ পয়েন্ট। গতকাল সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ার।

ডিএসইতে গতকাল ৯১২ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৭৭৯ কোটি টাকা। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৮৬টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৯টির, কমেছে ১৫২টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৫৫টির।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ঈদ-পরবর্তী লেনদেনের প্রথম দিনটি ইতিবাচকভাবে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীদের প্রবল উৎসাহ এবং ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে এমন নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের প্রতি অব্যাহত আগ্রহ বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী করেছে। লেনদেনের শুরু থেকেই বাজার বেশ চাঙ্গা ছিল এবং ঈদ-পরবর্তী এ ইতিবাচক মনোভাবের ফলে টানা ষষ্ঠ কার্যদিবসের মতো অধিকাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে প্রকৌশল খাত। ১৬ শতাংশ দখলে নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক খাত। ওষুধ ও রসায়ন খাত ১২ দশমিক ৪ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার তৃতীয় অবস্থানে ছিল। ১০ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে ছিল বস্ত্র খাত। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

গতকাল ডিএসইতে বেশির ভাগ খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৬ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। এছাড়া জীবন বীমা ও ব্যাংক খাতে ১ দশমিক ৪ এবং ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে গতকাল পাট খাতে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৬ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। এছাড়া এদিন চামড়া খাতে ১ দশমিক ২ ও সাধারণ বীমা খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।

সিএসইর নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ২১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই এদিন ৬১ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৯৭১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ১৮৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১১৮টির, কমেছে ৫৫টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ১৪টির। গতকাল সিএসইতে ৪৭ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২২ কোটি টাকা।

আরও