বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় স্বর্ণের দামে বড় পতন হয়েছে। প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম গত শুক্রবার ৩ হাজার ৯০০ ডলারের নিচে নেমে আসে, যা ১৩ মাসের মধ্যে অর্থাৎ ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন। একই দিনে রুপার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৩ হাজার ৮৮০ ডলার ৯৭ সেন্ট। আগের দিনের তুলনায় দাম কমেছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। গত এক মাসে স্বর্ণের দাম কমেছে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ১০ দশমিক ১৯ শতাংশ।
শুধু স্বর্ণ নয়, রুপার দামেও বড় পতন দেখা গেছে। গত শুক্রবার প্রতি আউন্স রুপার দাম ৬ শতাংশ কমে ৪৯ ডলারে লেনদেন হয়। গত এক বছরে ধাতুটির দাম কমেছে ৩১ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও যথাক্রমে ১৩ ও ১৭ মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। প্যালাডিয়ামের দাম ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৭৬ ডলার ৮ সেন্টে। প্লাটিনামের দামও ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৪২৫ ডলার ২ সেন্টে নেমেছে।
এদিকে মূল্যবান ধাতুর দাম কমলেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্টেক্রুডের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৩ ডলার ৭০ সেন্টে দাঁড়ায়। এর আগে তেলের দাম ১১৭ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা ছিল গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টা গ্যাসের দাম ছিল ১০৩ ইউরো ৫০ সেন্ট বা ১১৫ ডলার ৪০ সেন্ট। ২০২২ সালের শেষ দিকের পর সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি রয়েছে ইউরোপের এ জ্বালানির বাজার।
জ্বালানির উচ্চ দাম বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লে পরিবহন, উৎপাদন ও বিদ্যুতের খরচ বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে পণ্য ও সেবার দামে।
সাধারণত অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝোঁকেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণ ও রুপার দামে টানা দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে জ্বালানি বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে তেল ও গ্যাসের দাম চড়া রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারে ভিন্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।