বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের পূর্বাভাস

চার বছরে আমিরাতের সম্পদ ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে

দেশটিতে গত বছরও সম্পদের প্রবৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালে আরব বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটির নিট সম্পদ প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাড়তে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) নিট সম্পদ। ২০৩০ সালের শেষ নাগাদ দেশটির সম্পদের পরিমাণ ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছার পূর্বাভাস দিয়েছে বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ (বিসিজি)। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, আগামী চার বছরে দেশটির নিট সম্পদ ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বাড়বে। এ সময় বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি হতে পারে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ। খবর দ্য ন্যাশনাল।

বিসিজির গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট ২০২৬: দ্য গ্রেট রিঅর্ডারিং শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থাবর সম্পদ ও আর্থিক সম্পদ বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ সৃষ্টির সম্ভাবনা স্পষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে আছে দেশটির সরকার, ধনী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের মোট জমানো অর্থ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, শেয়ার ও বাড়ি-গাড়ির মতো সব ধরনের সম্পত্তির আর্থিক মূল্য।

দেশটিতে গত বছরও সম্পদের প্রবৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালে আরব বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটির নিট সম্পদ প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে জমি, বাড়ি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পদের পাশাপাশি আর্থিক সম্পদের মূল্যবৃদ্ধি।

বিসিজির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আমিরাতের স্থাবর সম্পদের মূল্য বেড়ে ২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। আগের বছরের শেষে এর পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। একই সময় দেশটির আর্থিক সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন থেকে বেড়ে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়।

অন্যদিকে দায় বা দেনার পরিমাণ ২১০ বিলিয়ন থেকে বেড়ে হয়েছে ২২০ বিলিয়ন ডলার। ২০৩০ সাল নাগাদ এ দায় বেড়ে ৩৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারগুলোয় স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামা বিনিয়োগকারীদের মনোভাবেও প্রভাব ফেলছে। তবে এ পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে আমিরাতের সম্পদ বাড়ার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত করবে না বলে মনে করছে বিসিজি।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অংশীদার লুকাস রে বলেন, ‘আগামী এক থেকে দুই বছরে সম্পদ বাড়ার গতি কিছুটা কমতে পারে। তবে দশকের শেষভাগে প্রবৃদ্ধি ফের বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।’

আমিরাতের সম্পদ বৃদ্ধিতে কয়েকটি বিষয় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বিসিজি। এর মধ্যে রয়েছে সরকারের সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের শক্তিশালী অবস্থান, অর্থনীতিতে বহুমুখীকরণের উদ্যোগ, পারিবারিক ব্যবসার মালিকদের হাতে নগদ অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের বিস্তার।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর এপ্রিলের শুরু থেকে সর্বাত্মক লড়াই বন্ধ থাকলেও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছর উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি গড়ে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। এপ্রিলে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় এটি ৫ দশমিক ৭ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) চলতি বছর এ অঞ্চলের অর্থনীতি সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা করছে। তবে সংঘাত কমে এলে আগামী বছর অর্থনীতিতে জোরালো প্রবৃদ্ধি ফিরতে পারে বলে জানান সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।

আরও