করপোরেট পুনর্গঠন বিধিমালার খসড়া প্রকাশ

কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানি কর্তৃক অন্য কোনো তালিকাভুক্ত বা অতালিকাভুক্ত কোম্পানির সঙ্গে একীভূতকরণ, অধিগ্রহণ বা যেকোনো ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য করপোরেট পুনর্গঠন বিধিমালা ২০২৬-এর খসড়া প্রকাশ করেছে বিএসইসি।

এতে ব্যাকডোর লিস্টিংয়ের মাধ্যমে অতালিকাভুক্ত কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। গতকাল বিএসইসির পক্ষ থেকে খসড়া বিধিমালাটি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিধিমালায় করপোরেট পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে, পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক খসড়া স্কিম অনুমোদনের পর ৩০ দিনের মধ্যে সেটি বিএসইসি ও স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ জমা দিতে হবে। এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জ ৩০ দিনের মধ্যে এবং বিএসইসি ৪৫ দিনের মধ্যে পর্যবেক্ষণ প্রদান করবে। পর্যবেক্ষণ অনুসারে স্কিম সংশোধন করে সেটি বিশেষ সাধারণ সভার (ইজিএম) মাধ্যমে অনুমোদন নিতে হবে। তারপর স্কিমটি অনুমোদনের জন্য উচ্চ আদালতের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। উচ্চ আদালতের অনুমোদন পাওয়ার পর মূলধন (শেয়ার/বন্ড) ইস্যুর জন্য বিএসইসির কাছে আবেদন করতে হবে। বিএসইসির কাছ থেকে সম্মতি পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে সেটি যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) জমা দিতে হবে।

কোন কোন ক্ষেত্রে পুনর্গঠন স্কিম গ্রহণ বা বাস্তবায়ন করা যাবে না সে বিষয়েও খসড়া বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কোম্পানির মূল্যায়নে কৃত্রিমভাবে স্ফীত বা অতিরিক্ত মূল্য দেখানো হলে পুনর্গঠন স্কিম বাস্তবায়ন করা যাবে না। সাধারণ ও জনসমক্ষে থাকা শেয়ারহোল্ডারদের ওপর অন্যায়ভাবে দায়দেনা বা লায়াবিলিটি চাপানো, মূল্যায়নের তারিখের আগে বাজারমূল্য কারসাজি করা এবং বিদ্যমান সিকিউরিটিজ আইন বা প্রতিযোগিতা আইন ফাঁকি দেয়া হলে সেক্ষেত্রেও পুনর্গঠন করা যাবে না।

শেয়ারের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ নিশ্চিত করতে বিধিমালায় বিএসইসি একটি নির্দিষ্ট মূল্যায়ন পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করেছে। কোম্পানিকে কমিশন অনুমোদিত প্যানেল অডিটর বা মার্চেন্ট ব্যাংকারকে স্বাধীন মূল্যায়নকারী হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে (যিনি কোম্পানির সংবিধিবদ্ধ অডিটর বা করপোরেট উপদেষ্টা হতে পারবেন না)। মূল্যায়নকারীকে অবশ্যই কমপক্ষে দুটি অ্যাবসলুট পদ্ধতি এবং কমপক্ষে দুটি রিলেটিভ পদ্ধতি ব্যবহার করে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে।

করপোরেট পুনর্গঠনের খসড়া স্কিমটি সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের সাধারণ সভায় অনুমোদিত হতে হবে। তবে এ অনুমোদনের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা, পরিচালক এবং ৫ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ারধারী ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান ভোট দিতে পারবেন না। উল্লিখিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে বাকি সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ ভোটের সমর্থন পাওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানির অডিট কমিটিকে একটি বিস্তারিত কস্ট-বেনিফিট (ব্যয়-সুবিধা) বিশ্লেষণ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এবং একটি স্বতন্ত্র মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে ফেয়ারনেস অপিনিয়ন নিতে হবে। আবেদনের মঙ্গে প্যানেল অডিটর দ্বারা প্রত্যয়িত বিগত পাঁচ বছরের আর্থিক তথ্যাদি জমা দিতে হবে; যার মধ্যে ৫ লাখ টাকা বা তার বেশি পরিমাণের সমস্ত লেনদেন বাধ্যতামূলকভাবে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে এ-সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র, আয়কর রিটার্নে প্রদর্শিত আয়ের সঙ্গে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের আয়ের মিল থাকা এবং সমস্ত পাওনাদার ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বন্ডহোল্ডারদের অনাপত্তিপত্র রয়েছে।

আরও