জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় নতুন একটি ব্যবসায়িক মডেল নিয়ে কাজ করছে জাপানি ইলেকট্রনিকস জায়ান্ট প্যানাসনিক হোল্ডিংস। প্রতিষ্ঠানটি নোভিতেক নামে গাছের বৃদ্ধির জন্য একটি বিশেষ ফর্মুলা তৈরি করেছে। এটি ব্যবহার করলে গাছপালা বাতাস থেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করতে পারবে। এ উদ্ভাবনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কার্বন ক্রেডিট বাজারে প্রবেশ করে আয়ের নতুন পথ তৈরি করার পরিকল্পনা করছে প্যানাসনিক।
নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্যানাসনিকের নতুন উদ্ভাবনটি মূলত একটি ‘বায়োস্টিমুল্যান্ট’। এটি এমন এক ধরনের পদার্থ, যা ফসলের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং প্রতিকূল পরিবেশেও গাছকে সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। জাপানের হাইওগো অঞ্চলের তাম্বা শহরে এটি ব্যবহার করে সফলতা পাওয়া গেছে। গত গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে যখন অনেক কৃষক তাদের ফসল হারিয়েছেন, তখন নোভিতেক ব্যবহার করে এক সয়াবিনচাষী সুস্থ ও সতেজ ফসল ঘরে তুলতে পেরেছেন।
উল্লেখ্য, প্যানাসনিকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘প্যানাসনিক এনভায়রনমেন্টাল সিস্টেমস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’ যৌথভাবে এটি তৈরি করেছে। ২০২২ সাল থেকে জাপানের বিভিন্ন খামারে মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে প্রযুক্তিটির।
নোভিতেক ব্যবহারের ফলে সাধারণ ফসল উৎপাদন ১০-২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। তবে কিছু নির্দিষ্ট ফসলের ক্ষেত্রে এ বৃদ্ধির হার আরো অনেক বেশি। যেমন এটি ব্যবহারের ফলে ভুট্টার প্রায় ৫০, টমেটোর ৪৪ ও পালং শাকের ৪১ শতাংশ ফলন বেড়েছে।
প্যানাসনিক হোল্ডিংসের প্রধান গবেষক সেজি কোজিমা বলেন, ‘বিশেষ পদার্থটি যখন পাতার গায়ে লেগে থাকে, তখন এটি ফসলের দ্রুত বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের সময়েও এটি গাছের খাবার তৈরির প্রক্রিয়া (সালোকসংশ্লেষণ) ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।’
প্যানাসনিকের দাবি, পরিবেশ রক্ষায় কোম্পানির এ প্রযুক্তি দ্বিমুখী ভূমিকা পালন করছে। একদিকে এটি বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শুষে নিতে সাহায্য করছে, অন্যদিকে এটি ব্যবহারের ফলে জমিতে রাসায়নিক সারের প্রয়োজনীয়তা কমে যাচ্ছে। যেহেতু রাসায়নিক সার কারখানায় তৈরি করার সময় প্রচুর কার্বন নিঃসরণ হয়, তাই সারের ব্যবহার কমলে পরোক্ষভাবে পরিবেশ দূষণও অনেক কমে আসবে।
৫০০ মিলিলিটারের মাত্র কয়েক বোতল নোভিতেক দিয়ে এক হেক্টর জমির পুরো বছরের চাহিদা মেটানো সম্ভব। জাপানি মুদ্রায় এক বোতলের দাম হবে ১০ হাজার ইয়েনের কম। প্যানাসনিকের লক্ষ্য ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ ৩০ কোটি টন কমিয়ে আনা। এ লক্ষ্যমাত্রার এক-তৃতীয়াংশ বা ১০ কোটি টন নিঃসরণ কমানো হবে নোভিতেকের মতো নতুন সব পরিবেশবান্ধব ব্যবসার মাধ্যমে।
জাপানে আগামী এপ্রিল থেকে কৃষি সমবায়গুলোর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে পণ্যটি বাজারজাত করা হবে। প্যানাসনিকের পরিকল্পনা রয়েছে ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তি শুধু ফসলে নয়, বরং বনজ গাছ ও সামুদ্রিক শৈবালেও প্রয়োগ করার। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি বড় এলাকাজুড়ে প্রাকৃতিক ‘কার্বন শোষক’ তৈরি করতে চায়। বর্তমানে প্যানাসনিক বছরে ৬০ হাজার বোতল নোভিতেক তৈরির সক্ষমতা রাখলেও চাহিদা বাড়লে তারা উৎপাদন আরো বাড়াবে বলে জানিয়েছে।