খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারত ও চীনে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন আগের তুলনায় বেড়েছে। ফলে এ বিপণন বর্ষে তুলার সমাপনী মজুদও আগের তুলনায় অনেক বেশি হবে। খবর ফাইবার টু ফ্যাশন।
তারা আরো জানান, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলো তুলা কেনা কমিয়ে দিয়েছে। বাজারে কৃষিপণ্যটির উদ্বৃত্ত জোগান থাকার কারণে দামও কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউএসডিএর এপ্রিলের ‘ওয়ার্ল্ড সাপ্লাই অ্যান্ড ডিমান্ড এস্টিমেট’ (ডব্লিউএএসডিই) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে তুলা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নয় লাখ বেল বাড়িয়ে ১২ কোটি ১৮ লাখ ৭০ হাজার বেল (প্রতি বেলে ৪৮০ পাউন্ড বা ২২০ কেজি) নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা জানান, মূলত চীন, ভারত ও পাকিস্তানে উৎপাদন তিন লাখ বেল করে বৃদ্ধির পূর্বাভাসের কারণেই বৈশ্বিক মোট উৎপাদনের পরিমাণ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য দেশেও উৎপাদন কিছুটা বাড়তে পারে।
ইউএসডিএ আরো জানায়, চলতি মৌসুমে বিশ্বব্যাপী তুলা ব্যবহার বাড়তে পারে আগের তুলনায় প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার বেল। এ সময় মোট ব্যবহার পৌঁছতে পারে ১১ কোটি ৯১ লাখ ৪০ হাজার বেলে।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, চীন ও ভারতের সুতা কলগুলোয় তুলার ব্যবহার বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামে তা কমে যাওয়ার কারণে এ প্রবৃদ্ধি কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।
অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী তুলা আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৬০ হাজার বেল কমিয়ে ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার বেলে নামিয়ে আনা হয়েছে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামে আমদানি চাহিদা হ্রাসের পরিমাণ চীন ও ভারতের বর্ধিত চাহিদাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার কারণে সামগ্রিক আমদানি কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডব্লিউএএসডিই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুমে তুলার সমাপনী মজুদ ৬ লাখ ৫০ হাজার বেল বাড়িয়ে ৭ কোটি ৭০ লাখ ৪০ হাজার বেল নির্ধারণ করা হয়েছে। এর পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে ভারত ও চীনের হাতে থাকা উদ্বৃত্ত তুলা। ফলে আগামী মৌসুমে বৈশ্বিক মজুদ ও ব্যবহারের অনুপাত (স্টক টু ইউজ রেশিও) কিছুটা বেড়ে ৬৪ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়াবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারের বিষয়ে ইউএসডিএ জানায়, ২০২৫-২৬ মৌসুমের তুলা সরবরাহ ও চাহিদার অন্যান্য সূচকে কোনো বড় পরিবর্তন আসেনি। তবে কৃষকের কাছ থেকে মৌসুমভিত্তিক গড় বিক্রয়মূল্য পাউন্ডপ্রতি ১ সেন্ট বাড়িয়ে ৬১ সেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।