দেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ‘ন্যাশনাল রোমিং’ সেবা। এর মাধ্যমে মোবাইল অপারেটররা একে অন্যের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকসেবা প্রদান করতে পারবে। ফলে এখন থেকে কোনো এলাকায় নিজ অপারেটরের নেটওয়ার্ক না থাকলে অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কথা বলাসহ সব ধরনের সেবা ব্যবহার করতে পারবেন গ্রাহকরা। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে গতকাল এক আলোচনা সভা শেষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বাংলালিংক ও টেলিটকের মধ্যে নতুন এ টেলিকম সেবার উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান এবং তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিএসএম জাফরুল্লাহ। আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলালিংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এরিক অস ও টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম হাবিবুর রহমান।
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাংলাদেশে আমরা ন্যাশনাল রোমিং চালু করছি। গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংকের সঙ্গে টেলিটককে প্রতিযোগিতায় যেতে হলে আমাদের ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা আজকেই বিনিয়োগ করতে হবে।’
জানা গেছে, বর্তমানে বাংলালিংকের গ্রাহক ৪ কোটি ৩৪ লাখ ৪০ হাজার। অন্যদিকে টেলিটকের গ্রাহক ৬৪ লাখ ৮০ হাজার। শুরুতে টেলিটকের দুই হাজার গ্রাহক এ রোমিং সেবা উপভোগ করবেন। সারা দেশে যেসব গ্রাহক বেশি কথা বলেন, ডাটা বেশি ব্যবহার করেন তাদের এ তালিকায় রাখা হয়েছে। ওয়েটিং লিস্টে রয়েছে আরো আট হাজার গ্রাহক। এক মাস পর তারাও এ সুবিধার আওতায় পড়বেন। এরপর এটি উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
সারা দেশে বাংলালিংকের সাড়ে ১৪ হাজার টাওয়ারের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে টেলিটক তার গ্রাহকদের সেবা দিতে পারবে। তবে বাংলালিংক এ সেবার জন্য টেলিটককে এখনই কোনো চার্জ করছে না।
বাংলালিংকের টাওয়ার আছে ১৪ হাজার, টেলিটকের আছে ছয় হাজার। আমরা বাংলাদেশের যেখানেই যাই, সেখানে বাংলালিংকের টাওয়ার পাচ্ছি, ফোরজি নেটওয়ার্ক পাচ্ছি, এসএমএস দিতে পারছি। কিন্তু আমার এ টেলিটক সিম নিয়ে এক জায়গায় হয়তো ফোরজি পাচ্ছি, তারপর গিয়ে টুজি, তারপর ইন্টারনেট নেই, তারপর নেটওয়ার্কও নেই। অনেক জায়গায় দেখি, ১ ঘন্টা বিদ্যুৎ চলে গেলে টাওয়ারও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এমন অসংখ্য সমস্যায় জর্জরিত টেলিটক।
টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘গ্রাহকের সুবিধার কথা বিবেচনায় “ন্যাশনাল রোমিং” সেবা চালুর উদ্যোগ একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ।
এর মাধ্যমে অপারেটরদের মধ্যে যেমন সৌহার্দ্য তৈরি হবে, তেমনি গ্রাহকরাও নির্বিঘ্নে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।’
বাংলালিংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এরিক অস বলেন, ‘আমরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। গ্রাহকরা বাধাহীনভাবে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।’
ন্যাশনাল রোমিং আন্তর্জাতিক রোমিং সেবার মতোই একটি বিষয়। এতে একটি মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকরা দেশের কোনো এলাকায় তাদের নেটওয়ার্ক না পেলে কিংবা নেটওয়ার্ক দুর্বল হলে আরেকটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সব রকম মোবাইল যোগাযোগ সেবা নেবেন। এটি চালুতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বিটিআরসি। রবি ও টেলিটকের মধ্যেও নেটওয়ার্ক শেয়ারিংয়ের একটি প্রস্তাব বিটিআরসির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।