প্রবীণ চাষীরা অবসরে যাচ্ছেন, আর নতুন প্রজন্ম এ কঠোর পরিশ্রমে আসতে চাইছে না। ফলে চা-বাগানের জমিগুলো ধীরে ধীরে চলে যাচ্ছে আবাসন প্রকল্পের হাতে। তার ওপর জাপানিদের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী ‘সেনচা’ গ্রিন টি বা সবুজ চা পানের অভ্যাসও দিন দিন কমছে। সংকটে পড়া এ চা শিল্পকে বাঁচাতে এবার অভিনব এক উদ্যোগ নিয়েছে টোকিওর স্থানীয় সরকার। তাদের নজর এখন বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয় ‘মাচা’ চায়ের দিকে।
চাষীদের সেনচা ছেড়ে মাচা চাষে আগ্রহী করার লক্ষ্যে সরকার নানা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, নতুন চা-কে বিশ্ববাজারে ‘টোকিও মাচা’ নামে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
সেনচা ও মাচা দুটি চা-ই তৈরি হয় একই গাছ থেকে। তফাতটা মূলত চাষের ধরন ও প্রক্রিয়াজাতে। সেনচা চায়ের পাতাগুলো সরাসরি সূর্যের আলোয় বড় হয়। পাতা তোলার পর বারবার ভাপ দিয়ে ও বিশেষ কায়দায় পেঁচিয়ে সেনচা তৈরি করা হয়। অন্যদিকে মাচা তৈরির প্রক্রিয়াটি বেশ দীর্ঘ ও যত্নের। পাতা তোলার অন্তত ২০ দিন আগে থেকেই পুরো চা-বাগান কালো কাপড়ে ঢেকে ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়। বিশেষ এ পাতাকে বলা হয় ‘তেনচা’। পরে পাতাগুলো না পেঁচিয়ে সরাসরি চুল্লিতে শুকানো হয় এবং পাথরের জাঁতায় পিষে মিহি গুঁড়া বা পাউডারে রূপ দেয়া হয়। এটিই মূলত মাচা।
সারা বিশ্বেই এখন স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ছে। সেই সঙ্গে জনপ্রিয় হচ্ছে জাপানি খাবার। এ দুইয়ের মেলবন্ধনে বিদেশে মাচা চায়ের চাহিদা এখন আকাশচুম্বী। শুধু সাধারণ চা হিসেবেই নয়, লাতে, আইসক্রিম শুরু করে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি তৈরিতেও এখন মাচার গুঁড়া ব্যবহার করা হচ্ছে। জাপানে যাওয়া বিদেশী পর্যটকদের কাছেও এটি বেশ আকর্ষণীয়। তবে বাজারে যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে, সে তুলনায় মাচার উৎপাদন এখনো অনেক কম। ফলে বাজারে পণ্যটির দাম সাধারণ সেনচা চায়ের চেয়ে বেশ চড়া।
টোকিও সরকার ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত বাজেটে ২ কোটি ইয়েন (প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার ডলার) বরাদ্দ করেছে। এ অর্থ দিয়ে চাষীদের বাগান ঢাকার সরঞ্জাম কেনা ও প্রক্রিয়াকরণের খরচ কমানোর জন্য ভর্তুকি দেয়া হবে। ২০২৬ অর্থবছর থেকে একজন চাষীকে দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে মাচা উৎপাদন শুরু হবে, যা পরে আরো বাড়ানো হবে। যেহেতু টোকিওর চাষীদের মাচা চাষের অভিজ্ঞতা কম, তাই তারা প্রতিবেশী সাইতামা অঞ্চলের অভিজ্ঞ চাষীদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ পাবেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় টোকিওর সবুজ চা-বাগানগুলো আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে, এমনটাই আশা করা হচ্ছে। —খবর নিক্কেই এশিয়া