যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া ৭৮ শতাংশ খেলনাই ‘মেড ইন চায়না’

চীনের কারখানায় তৈরির পর জাহাজে চড়ে এসব খেলনা পৌঁছায় যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রি হওয়া খেলনার বড় অংশই যায় চীন থেকে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে আমদানি করা খেলনার ৭৮ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল চীনে তৈরি। এসব খেলনার আমদানি মূল্য ছিল ৯৮০ কোটি ডলার।

চীনের কারখানায় তৈরির পর জাহাজে চড়ে এসব খেলনা পৌঁছায় যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে। এরপর আমদানি শুল্ক, পরিবহন ও বিপণন ব্যয় পেরিয়ে জায়গা করে নেয় খুচরা বিক্রির দোকানে।

চীনের দক্ষিণাঞ্চলে হংকংয়ের পাশের প্রদেশ কুয়াংতুং দেশটির খেলনা উৎপাদনের প্রধান কেন্দ্র। প্রদেশটির তোংকুয়ান শহরে অবস্থিত মিহক্স কারখানায় ধাতব ছাঁচ থেকে প্লাস্টিকের খেলনার অংশ তৈরি করেন শ্রমিকরা। পরে সেগুলো রঙ করা ও জোড়া লাগানো হয়।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, বছরে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি খেলনা তৈরি করা হয়। এর অর্ধেকের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজার।

একটি খেলনা তৈরির কাজ শুরু হয় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের নকশা দিয়ে। প্রথমে নমুনা তৈরি করা হয়। এরপর প্লাস্টিকের বিভিন্ন অংশ তৈরির জন্য বানানো হয় ছাঁচ। নকশা চূড়ান্ত করা থেকে শুরু করে বাজারে বিক্রির উপযোগী খেলনা তৈরি করতে এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ সময় ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী নকশায় একাধিকবার পরিবর্তন আনতে হয়। নকশা চূড়ান্ত হলে ছাঁচ তৈরি করতে লাগে প্রায় এক মাস। এরপর শুরু হয় মূল উৎপাদন, যা শেষ হতে পেরিয়ে যায় তিন মাস।

কারখানায় তৈরির পর খেলনা ট্রাকে করে বন্দরে নেয়া হয়। এরপর কনটেইনারে ভরে জাহাজে পাঠানো হয় যুক্তরাষ্ট্রে। চীনের কুয়াংতুং প্রদেশের শেনচেন বন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে পৌঁছতে জাহাজের প্রায় ১৫ দিন লাগে। পূর্ব উপকূলে পৌঁছতে সময় লাগে ২৫-৩০ দিন। যুক্তরাষ্ট্রের দোকানে এগুলো বিক্রি হয় ৩০ ডলারে।

মিহক্সের বিক্রয় বিভাগের কর্মী মেলানি ওয়াংয়ের হিসাবে, খেলনার খুচরা বিক্রয়মূল্যের প্রায় ২০ শতাংশ পায় কারখানা। অর্থাৎ ৩০ ডলারের একটি খেলনা তৈরির জন্য কারখানা পায় ৬ ডলার।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর চীনা খেলনার ওপর আমদানি শুল্ক দিতে হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুল্কের মূল হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে কিছু খেলনার ক্ষেত্রে হার আরো বেশি।

চীনে উৎপাদন, যুক্তরাষ্ট্রে পরিবহন ও আমদানি শুল্ক মিলিয়ে ৩০ ডলারের খেলনার মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৭ ডলার ৩৫ সেন্ট। বাকি ২২ ডলার ৬৫ সেন্ট থেকে যায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেই।

বিবিসি অবলম্বনে

আরও