বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে ইজিএম আহ্বান

মূলধন দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত পূবালী ব্যাংকের

তথ্যানুসারে, মূলধন বাড়ানোর সিদ্ধান্তে অনুমোদন নিতে আগামী ২৫ অক্টোবর বেলা ১১টায় ডিজিটাল প্লাটফর্মে ইজিএম করবে পূবালী ব্যাংক।

পূবালী ব্যাংক পিএলসির পর্ষদ ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন বিদ্যমান ২ হাজার কোটি থেকে বাড়িয়ে ৪ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলধন বাড়াতে ব্যাংকটির সংঘ বিধি ও সংঘ স্মারকের সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধনের প্রয়োজন হবে। এ সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসারে, মূলধন বাড়ানোর সিদ্ধান্তে অনুমোদন নিতে আগামী ২৫ অক্টোবর বেলা ১১টায় ডিজিটাল প্লাটফর্মে ইজিএম করবে পূবালী ব্যাংক। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর। ইজিএমে বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নেয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকেও অনুমোদন নেবে পূবালী ব্যাংক।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) পূবালী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৩৯ পয়সা, যেখানে এর আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ টাকা ৭০ পয়সা (পূনর্মূল্যায়িত)। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা ৯০ পয়সায়।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে পূবালী ব্যাংকের পর্ষদ। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ৩৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে ইপিএস ছিল ৫ টাকা ৯৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫৪ টাকা ৩২ পয়সায়।

২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে পূবালী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৭৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ৮ পয়সায়।

২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে পূবালী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৭৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৪৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ৩৩ পয়সায়।

২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে পূবালী ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৪৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ২৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে ব্যাংকটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ৯৬ পয়সায়।

পূবালী ব্যাংকের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ২০২৬ হিসাব বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি (সিআরআইএসএল)।

১৯৮৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পূবালী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৫৬১ কোটি ৭২ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৫ হাজার ৫০৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৫৬ কোটি ১৭ লাখ ২১ হাজার ৮৪২। এর ৩১ দশমিক ৮৭ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৩ দশমিক ৮৯, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক শূন্য ৫ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪৪ দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ডিএসইতে গতকাল পূবালী ব্যাংকের শেয়ার সর্বশেষ ৩৭ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ২৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৪৪ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে।

আরও