মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি রফতানি ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের দিকে ঝুঁকছে কাতার। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার পরিমাণ বাড়িয়েছে দেশটি। ফলস্বরূপ আগামী দশকের শুরুতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মার্কিন এলএনজি ক্রেতা হয়ে উঠতে পারে কাতার। খবর এফটি।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে অতিরিক্ত ৭০ লাখ টন এলএনজি কেনার জন্য সম্প্রতি দুটি চুক্তি করেছে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি। টেক্সাসে নির্মাণাধীন গোল্ডেন পাস এলএনজি প্রকল্পে ৭০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এ প্রকল্পের উৎপাদনে নিজেদের হিদ্যা যোগ করলে ২০৩৩ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ২ কোটি ৩৭ লাখ টন এলএনজি কেনার সক্ষমতা তৈরি হবে কাতারএনার্জির। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির হিসাব অনুযায়ী, এর মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মার্কিন এলএনজি ক্রেতা হয়ে উঠবে প্রতিষ্ঠানটি।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা এসব গ্যাস কাতারে ব্যবহার করা হবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে তা পুনরায় বিক্রি করবে কাতারএনার্জি। যেসব দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প-কারখানার জ্বালানি হিসেবে এলএনজি আমদানি করে, সেসব বাজারেই সরবরাহ করা হবে এ গ্যাস। এতে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে গ্রাহকদের কাছে জ্বালানি পৌঁছানো সম্ভব হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ কাতারের জ্বালানি রফতানিতে বড় প্রভাব ফেলেছে। একসময় বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি রফতানিকারক ছিল দেশটি। কিন্তু ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় চলতি বছর কাতারের এলএনজি রফতানি স্বাভাবিক সময়ের এক-তৃতীয়াংশেরও নিচে নেমেছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বাইরের ক্রেতাদের কাছে গ্যাস পাঠানোর একমাত্র পথ এ প্রণালি।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি রফতানিকারকের অবস্থান হারায় কাতার।
বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে রফতানি সক্ষমতা বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র তখন শীর্ষস্থান দখল করে। এরপর আন্তর্জাতিক গ্যাস বাজারে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে সরবরাহের পাশাপাশি ব্যবসা সম্প্রসারণেও মনোযোগী হয় কাতার। ২০২০ সালে এলএনজি বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু করে কাতারএনার্জি। গত বছর প্রতিষ্ঠানটি দুই কোটি টনের বেশি এলএনজি বাণিজ্য করেছে বলে জানায় উড ম্যাকেঞ্জি।