বিশ্বের অন্যতম প্রধান কফি উৎপাদনকারী দেশ ভিয়েতনামে চলতি মৌসুমে মজুদ ও চাহিদা উভয়ই কম থাকায় রোবাস্তা কফির দাম কিছুটা কমেছে। দেশটির প্রধান কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডসের কৃষকরা প্রতি কেজি কফি ৩ ডলার ৬৯ থেকে ৩ ডলার ৭২ সেন্টে (৯০ হাজার ৩০০ থেকে ৯৭ হাজার ডং) বিক্রি করছেন। গত সপ্তাহেও দাম ৯৮ হাজার ৩০০ থেকে ৯৯ হাজার ডং ছিল। ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) নভেম্বরের সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন রোবাস্তা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭৫২ ডলারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কৃষকদের কাছে থাকা কফির মজুদ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। তবে আগামী মৌসুমের উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে। লাম ডং ও জিয়া লাই প্রদেশের কৃষকরা জানান, খরার কারণে সেচ ব্যাহত হওয়া এবং অতিবৃষ্টির কারণে পোকার উপদ্রব বাড়ায় এবার কফির ফলন প্রায় ২০ শতাংশ কমতে পারে। আগামী ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি কফি ৯০-৯৩ হাজার ডং দর হাঁকছেন।
অন্যদিকে আইসিইতে অপরিশোধিত চিনির দাম এক বছরেরও বেশি সময় ধরে রেকর্ড সর্বোচ্চে থাকার পর কমে এসেছে। প্রতি পাউন্ডের দাম ১৭ পাউন্ড ১১ সেন্ট থেকে দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১৬ পাউন্ড ৭৫ সেন্টে নেমেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে তাৎক্ষণিক সরবরাহ প্রচুর থাকলেও এশীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের আমদানিকারকদের চাহিদা কম থাকায় এ দরপতন হয়েছে।
শীর্ষ উৎপাদক দেশ ব্রাজিলে ইথানলের চেয়ে চিনির দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেশি থাকায় কারখানাগুলো চিনি উৎপাদনে জোর দিচ্ছে। তবে এল নিনোর কারণে আগামী ২০২৬-২৭ মৌসুমে বিশ্ববাজারে চিনির ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে ব্রাজিলে কৃষকদের বিক্রি বাড়ায় অ্যারাবিকা কফির দাম দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি পাউন্ড ৩ ডলার ১০৩ সেন্টে নেমেছে। রোবাস্তা কফির দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি টন ৩ হাজার ৬০৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। কলম্বিয়ায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কফি রফতানি বিলম্বিত হচ্ছে।
অন্যদিকে লন্ডনে কোকোর দাম ১ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে প্রতি টন ৪ হাজার ১১১ পাউন্ড এবং নিউইয়র্কে ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি টন ৫ হাজার ৬৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগামী মৌসুমের ফসল নিয়ে ব্যবসায়ীরা সতর্ক অবস্থানে থাকায় দাম কমে গেছে।