সিএসইর মতবিনিময় সভা

কমোডিটি এক্সচেঞ্জে অনুমাননির্ভর লেনদেনের সুযোগ থাকবে না

পণ্য ক্রয়-বিক্রয়কারী ও উৎপাদকরা এ বাজারে অংশ নিয়ে আগাম পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সঠিক দাম নিশ্চিত করার সুযোগ পাবেন, যা ভবিষ্যৎ মূল্যঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেশে প্রস্তাবিত কমোডিটি এক্সচেঞ্জে কোনো ধরনের অনুমাননির্ভর লেনদেনের সুযোগ থাকবে না। পণ্য ক্রয়-বিক্রয়কারী ও উৎপাদকরা এ বাজারে অংশ নিয়ে আগাম পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সঠিক দাম নিশ্চিত করার সুযোগ পাবেন, যা ভবিষ্যৎ মূল্যঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে কমোডিটি এক্সচেঞ্জে মাত্র ১০ শতাংশ জামানত বা মার্জিন দিয়ে বড় অংকের লেনদেনের সুযোগ থাকায় অসতর্কতার কারণে একদিনেই বড় ধরনের লোকসানের ঝুঁকিও রয়েছে। গতকাল চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে অবস্থিত চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) মিলনায়তনে চট্টগ্রামভিত্তিক সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত ‘পুঁজিবাজারের বহুমুখীকরণ: বাংলাদেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সচেতনতা ও মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব মন্তব্য করেন।

কমোডিটি এক্সচেঞ্জের কৌশলগত সুবিধা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট মির্জা সালমান ইস্পাহানি বলেন, ‘একজন ধান উৎপাদনকারী যদি বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি ৪০ টাকা দাম পেয়ে সন্তুষ্ট থাকেন, তাহলে তিনি আগেই নির্দিষ্ট চুক্তিতে ওই দামে পণ্য বিক্রি করে দিতে পারবেন। পরবর্তী সময়ে বাজারে দাম বেড়ে ৪৪ টাকা হলেও তার আর মূল্যঝুঁকি থাকবে না। নির্ধারিত সময় শেষে চুক্তি অনুযায়ী ক্রেতাকে পণ্য সরবরাহ করবেন তিনি। কমোডিটি বাজারের অন্যতম বড় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এটি।’

বাজারে কারসাজির সুযোগও অত্যন্ত সীমিত থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিটি লেনদেন সর্বাধুনিক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে কঠোর নজরদারির আওতায় থাকবে। ফলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনো পণ্যের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানো বা কমানোর চেষ্টা করলে তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে লেনদেনের সব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

এ বাজারে লেনদেনের ঝুঁকি সম্পর্কেও সতর্ক করেন মির্জা সালমান ইস্পাহানি। তিনি বলেন, ‘উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ঝুঁকি না নিয়ে টিকে থাকার কৌশল অনুসরণ করে লেনদেন করতে হবে। কমোডিটি এক্সচেঞ্জে মাত্র ১০ শতাংশ জামানত বা মার্জিন দিয়ে বড় অংকের লেনদেনের সুযোগ থাকায় অসতর্কতার কারণে একদিনেই বড় ধরনের লোকসানের ঝুঁকি রয়েছে।’

কমোডিটি এক্সচেঞ্জ নিছক অনুমাননির্ভর লেনদেনের জায়গা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি প্রকৃত পণ্য বেচাকেনার একটি সুনিয়ন্ত্রিত বাজার। এ বাজার চালু হলে দেশের উৎপাদক ও ব্যবসায়ী উভয়ের জন্যই নতুন ধরনের বাণিজ্য ও আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।’

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিএসইর পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘সিএসইর হাত ধরে কমোডিটি এক্সচেঞ্জের মতো নতুন উদ্যোগের যাত্রা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে। কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার ভাষায়, এটি যেন একটি নতুন শিশুর আগমন, যা ভবিষ্যতে দেশ ও অর্থনীতিকে আরো সমৃদ্ধ ও বাসযোগ্য করে তুলবে।’

দেশের পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজার গঠনে সিএসইর প্রতিষ্ঠাতারা নেতৃত্ব দিয়েছেন—এটি অকাট্য সত্য। তবে কালের পরিক্রমায় প্রতিষ্ঠানটি কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ কেন পুঁজিবাজারে আস্থা হারাচ্ছে কিংবা কেন তারা পুঁজি হারাচ্ছে, তার সঠিক কারণ এখনো উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। ঐতিহ্যবাহী খাতুনগঞ্জের মতো পাইকারি বাজারে ভুয়া ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) কিংবা একই পণ্য একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রির মতো প্রতারণা ঘটে। কমোডিটি এক্সচেঞ্জের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও সুনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে এ ধরনের অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব।’

আরও