দিনাজপুরের হিলি ও সাতক্ষীরায় কমেছে আদার দাম। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি বন্ধ থাকলেও মিয়ানমার থেকে আদা আসছে। অন্যদিকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়েও আমদানি অব্যাহত।
হিলির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে আদার দাম কমেছে কেজিতে ৬০ টাকা। আগে প্রতি কেজি ২৬০ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ২০০ টাকায় নেমেছে।
হিলি বাজারে আদা কিনতে আসা আব্দুল খালেক বলেন, ‘ঈদের পর আদার দাম কমতে শুরু করে। ঈদের আগে যে আদা ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল বর্তমানে তা ২০০ টাকায় নেমেছে।’
হিলি বাজারের আদা বিক্রেতা শাকিল খান বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই বাজারে দেশীয় আদার তেমন কোনো সরবরাহ নেই। আমদানীকৃত আদা দিয়েই চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা দাম কম থাকায় ভারতের বদলে মিয়ানমার থেকে আদা আমদানি শুরু করেছেন। এতে বাজারে আদা সরবরাহ ব্যাপক হারে বেড়েছে। বর্তমানে আমরা প্রতি কেজি আদা পাইকারিতে ১৮০ টাকা বিক্রি করছি, যা খুচরায় ২০০ টাকা।’
হিলি স্থলবন্দরের আদা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট রয়েল মল্লিক বলেন, ‘ভারত থেকে প্রতি টন আদা ৩১৫ ডলার মূল্যে আমদানি করা হতো। ৯৫০ ডলার মূল্যে কাস্টমস শুল্কায়ন করা হতো। কেজিপ্রতি আদা আমদানিতে ১০ টাকা ৬৫ পয়সা শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছিল। আমদানীকৃত এসব আদা বন্দরে পাইকারিতে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। বর্তমানে মিয়ানমার থেকে আদা আমদানি করছেন আমদানিকারকরা। এতে বাজারে আদার দাম ব্যাপক হারে কমে গেছে।’
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘বন্দর দিয়ে চলতি মাসের এ পর্যন্ত পাঁচ কর্মদিবসে নয়টি ট্রাকে ১৩৯ টন আদা আমদানি হয়েছে। এছাড়া জুনে ৬৪টি ট্রাকে ১ হাজার ১৪৯ টন আমদানি হয়েছিল।’
এদিকে ১৫ দিনের ব্যবধানে সাতক্ষীরায় কেজিতে ২৪০-২৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে আদার দাম। আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে।
সাতক্ষীরা জেলা শহরের সবচেয়ে বড় মসলা মোকাম সুলতানপুর বড় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এ বাজারে আদা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৭৫-১৮০ টাকা দরে, যা ১৫-১৬ দিন আগেও ছিল ৪২০-৪৪০ টাকা। বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, কোরবানির ঈদের পর সব ধরনের মসলার চাহিদা কিছুটা কমেছে। তাছাড়া আমদানীকৃত আদা সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় পণ্যটির দাম এখন কমতির দিকে।
পাইকারির পাশাপাশি খুচরা বাজারেও দাম কমেছে আদার। দুই সপ্তাহে আগেও সাতক্ষীরার খুচরা বাজারে দাম ছিল কেজিপ্রতি ৪৫০-৪৬০ টাকা, যা বর্তমান খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা দরে।
মসলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভোমরা বন্দরের রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান জানান, সম্প্রতি তার প্রতিষ্ঠানে আদা আমদানি বেড়েছে। সপ্তাহে ৮-১০ ট্রাক আমদানি হচ্ছে। ঈদের আগ পর্যন্ত সপ্তাহে আমদানি হয়েছিল তিন-চার ট্রাক করে।
সাতক্ষীরা জেলা মার্কেটিং অফিসার আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ জানান, শুধু আদা নয়, ঈদের পর অন্যান্য মসলার দামও কমেছে। তবে কাঁচামরিচের দাম এখনো স্বাভাবিক হয়নি। দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢলে মরিচের খেত তলিয়ে গেছে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। তাই কাঁচামরিচের দাম কমতে আরো সময় লাগবে।