২০২৬ সাল

ফ্রান্সে ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় দাঁড়াতে পারে ৬৫ বিলিয়ন ইউরোয়

একই সঙ্গে চলতি বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়েছে ফরাসি সরকার।

ফ্রান্সের সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় চলতি বছর ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে। এতে দেশটির মোট সুদ বাবদ ব্যয় দাঁড়াতে পারে ৬৫ বিলিয়ন ইউরো। ভূরাজনৈতিক সংকট ও বৈশ্বিক বন্ডবাজারের অস্থিরতার কারণে এ ব্যয় আরো বাড়ছে। খবর এফটি।

ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোলাঁ ল্যস্কুর শুক্রবার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ফ্রান্সের ঋণের সুদ পরিশোধে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তা শিশুদের শিক্ষা বা দেশের প্রতিরক্ষা খাতের ব্যয়ের চেয়েও বেশি।’

একই সঙ্গে চলতি বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়েছে ফরাসি সরকার। ২০২৬ সালে দেশটির জিডিপি দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে এখন ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর প্রবৃদ্ধি বেড়ে ১ শতাংশ হতে পারে। তবে এ পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে হবে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ফ্রান্সের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। এছাড়া চলতি গ্রীষ্মের খরায় কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির রাজনীতিতেও অনিশ্চয়তা রয়েছে। সংসদে রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সামনে এপ্রিলের গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থাকায় এ চাপ আরো বাড়ছে।

ল্যস্কুর আগামী বছরের বাজেট নিয়ে আইনপ্রণেতাদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তিগুলোকে অক্ষুণ্ন রেখেই সবাইকে যৌথভাবে দায়িত্ব নিতে হবে।’

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমে যাওয়ায় চলতি বছর বাজেট ঘাটতি জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সরকারি লক্ষ্যও পূরণ করা সম্ভব হবে না বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তবে নতুন কোনো ঘাটতি পূর্বাভাস দেননি তিনি। চলতি বছর ফ্রান্সে মূল্যস্ফীতি ২ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে বলেও জানান তিনি।

ফ্রান্সের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস সংশোধনের সময় ইউরোপের সুদহারও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ইসিবি ইউরোজোনে সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এদিকে ফ্রান্সের শ্রমবাজারের অবস্থাও দুর্বল হচ্ছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) দেশটির বেকারত্বের হার বেড়ে ৮ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০২০ সালের শেষ দিকের পর এটি সর্বোচ্চ। সে সময় কভিড-১৯ মহামারীর কারণে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়েছিল।

আরও