অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বিশ্বের বৃহত্তম কফি উৎপাদনকারী দেশটিতে এবার বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। দেশটির জাতীয় শস্য সংস্থা কোনাব এবং শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পূর্বাভাসে এমনটাই জানানো হয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
কোনাবের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় ২০২৬ সালে ব্রাজিলে কফি উৎপাদন ১৮ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৬ কোটি ৬৭ লাখ ব্যাগে (প্রতি ব্যাগ ৬০ কেজি) পৌঁছতে পারে। এর মধ্যে উচ্চমানের অ্যারাবিকা কফির উৎপাদন ২৮ শতাংশ বেড়ে ৪ কোটি ৫৮ লাখ ব্যাগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে রোবাস্তা কফির উৎপাদন সামান্য বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২ কোটি ৯ লাখ ব্যাগে।
উৎপাদন বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রাজিলের কফি রফতানিও বড় ব্যবধানে বাড়বে। বৈশ্বিক পণ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ইসিওএমের ব্রাজিলীয় শাখা এইসা জানিয়েছে, আগামী জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন ফসল বর্ষে দেশটিতে কফি রফতানির নতুন রেকর্ড তৈরি হবে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক কার্লোস সান্তানা রয়টার্সকে জানান, এবার সবুজ কফি রফতানি প্রায় পাঁচ কোটি ব্যাগে পৌঁছতে পারে, যা ২০২৪ সালের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অন্য প্রধান উৎপাদনকারী দেশে কফি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে কফির দাম অনেক বেড়ে যায়। ফলে মজুদ কমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। ব্রাজিলের এ রেকর্ড রফতানি বিশ্ববাজারের সেই ঘাটতি মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে চাষী ও ব্যবসায়ীরা বর্তমানে এল নিনো আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এল নিনোর কারণে তীব্র গরম পড়লে আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের দিকে কফি গাছের ফুল ফোটার প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তেমনটি হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় চাষীরা পরবর্তী সময়ে কফি বিক্রির গতি কমিয়ে দিতে পারেন।
বর্তমানে ব্রাজিলের মোট কফি ফসলের প্রায় ৫ শতাংশ কাটা হয়েছে।