ইন্দোনেশিয়ায় চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) পাম অয়েল ও কয়লা রফতানির পরিমাণ কমেছে। তবে পণ্য দুটির রফতানি থেকে বেড়েছে আয়। মূলত বিশ্ববাজারে দাম বেশি থাকায় আলোচ্য সময়ে দুটি খাত থেকেই আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান ব্যুরো গত মঙ্গলবার এ তথ্য প্রকাশ করে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
দেশটির পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া ১ কোটি ৩৫ লাখ ১০ হাজার টন অপরিশোধিত ও পরিশোধিত পাম অয়েল রফতানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ পরিমাণ দশমিক ৯৭ শতাংশ কম। তবে এ সময়ে পাম অয়েল রফতানি থেকে ইন্দোনেশিয়ার আয় হয়েছে ১ হাজার ৪৭৯ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি।
পরিসংখ্যান ব্যুরোর এ হিসাবের মধ্যে পামবীজ বা পাম কার্নেল অয়েল, বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য (ওলিওকেমিক্যালস) এবং জৈব জ্বালানি বা বায়োডিজেল অন্তর্ভুক্ত নেই। ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল সমিতি (গাপকি) সাধারণত পরে নিজস্ব রফতানি তথ্য প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদনে অন্যান্য পামজাত পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকায় রফতানির পরিমাণে পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে একই সময়ে কমেছে ইন্দোনেশিয়ার কয়লা রফতানির পরিমাণও। জানুয়ারি থেকে জুলাই সময়ে দেশটি ২০ কোটি ১৪ লাখ ৭০ হাজার টন কয়লা রফতানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ কম।
তবে পাম অয়েলের মতো কয়লা রফতানিতেও মোট আয়ের ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। পর্যালোচনাধীন সাত মাসে কয়লা রফতানি থেকে ইন্দোনেশিয়ার আয় হয়েছে ১ হাজার ৪৪৭ কোটি ডলার। গত বছরের প্রথম সাত মাসের তুলনায় এ আয় ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।
পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, কয়লা রফতানির হিসাব তৈরি করা হয়েছে শুল্ক দপ্তরের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে। ফলে দেশটির জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যের সঙ্গে এর সামান্য অমিল থাকতে পারে। কারণ মন্ত্রণালয়টি খনি কোম্পানিগুলোর দেয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হিসাব তৈরি করে।
ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান পাম অয়েল ও কয়লা রফতানিকারক দেশ। ফলে দেশটির রফতানির পরিমাণের পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।