থাইল্যান্ডে টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যায় ব্যাহত হচ্ছে দেশটির চাল উৎপাদন ও পরিবহন। পিছিয়ে যাচ্ছে নতুন মৌসুমের ধান রোপণও। ফলে ভবিষ্যতে চালের সরবরাহ কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে আগামী সপ্তাহগুলোয় দেশটিতে চালের দাম বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। তবে রফতানি চাহিদা কম থাকায় দাম বৃদ্ধির গতি সীমিত হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তারা। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
থাইল্যান্ডের চাও ফ্রায়া নদীতে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে নৌ-পথে চাল পরিবহন ও জাহাজে পণ্য তোলার কাজ। বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী চালকলগুলো থেকে বন্দরে চাল পাঠাতে সমস্যা হচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যার কারণে পিছিয়ে যাচ্ছে নতুন মৌসুমের ধান রোপণও। তবে চালের উৎপাদনে প্রকৃত ক্ষতি কতটা হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
থাইল্যান্ডের কৃষি ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ৪২টি প্রদেশে ২ অক্টোবর পর্যন্ত ১৬ লাখ ৪০ হাজার রাই (থাইল্যান্ডে জমির আয়তন মাপার একক) বা ২ লাখ ৬৩ হাজার হেক্টর বেশি কৃষিজমি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ধানের জমি প্রায় ১৩ লাখ ২০ হাজার রাই (২ লাখ ১০ হাজার ৮৮৭ হেক্টর)। এর মধ্যে ঠিক কতটুকু ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে, তার চূড়ান্ত হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় চাল রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান এশিয়া গোল্ডেন রাইসের বিপণনপ্রধান অনুরাগ দিসিরিসাথিয়েন জানান, বন্যাকবলিত এলাকায় পানি না কমা পর্যন্ত কৃষকরা নতুন করে ধান রোপণ করতে পারবেন না। সেপ্টেম্বরের ফসল কাটার পর নতুন আবাদ শুরুর কথা ছিল। এ ছাড়া বৃষ্টি ও নদীতে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় চালকল থেকে বন্দরে পণ্য পরিবহন ধীর হয়ে গেছে। বন্দরে জাহাজজট ও শ্রমিক সংকটের কারণেও চাল ওঠানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এতে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজার তথ্য সরবরাহকারী সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির প্ল্যাটসের তথ্য অনুযায়ী, থাইল্যান্ডের ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সাদা চালের দাম ৬ অক্টোবর বেড়ে টনপ্রতি ৪৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের দিনের তুলনায় দাম বেড়েছে ৪ ডলার।
চলতি ২০২৬-২৭ বিপণন বছরে থাইল্যান্ডে চালের উৎপাদন কমতে পারে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি সেরার পূর্বাভাস অনুযায়ী, উৎপাদন ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ কোটি ৯৯ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের পূর্বাভাসে উৎপাদন ২ শতাংশ কমে ২ কোটি ৩০ হাজার টন হতে পারে।
এদিকে দেশটির চাল রফতানির ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু বাধা। পার্শ্ববর্তী দেশ ফিলিপাইনে চালের চাহিদা কম এবং পরিবহন ব্যয় বেশি হওয়ায় কনটেইনারে চাল রফতানি কমেছে। ফলে বন্যার কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনো অনিশ্চিত। রফতানিকারকেরা জানান, এ মুহূর্তে চালের মূল সংকট ধান নষ্ট হওয়ার চেয়ে পরিবহন বা লজিস্টিকস জটিলতায় বেশি তৈরি হচ্ছে। নদীপথ বন্ধ থাকা এবং নতুন ফসল রোপণে বিলম্ব হওয়ার কারণে আগামী সপ্তাহেও চালের বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে।