রফতানিমুখী বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করল সরকার

রফতানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতের জন্য শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধার পরিবর্তে দেয়া বিকল্প নগদ সহায়তার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে সরকার।

এতদিন এ খাতে ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেয়া হলেও এখন তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান শাখা-১ থেকে বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

অর্থ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে রফতানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতের জন্য বিদ্যমান বিকল্প নগদ সহায়তার হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ সুবিধা পেতে হলে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে প্রণোদনা গ্রহণের আগে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই দেশীয় উৎস থেকে কাঁচামাল—বিশেষ করে সুতা ও কাপড় সংগ্রহের প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। এ শর্ত প্রযোজ্য হবে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং অন্যান্য রফতানিকারক সংগঠনের সদস্যদের ক্ষেত্রেও।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, নতুন এ নগদ সহায়তার হার গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

জানা যায়, আড়াই বছর আগে স্থানীয় সুতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রফতানিতে ৪ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হতো। তবে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ৩ শতাংশ করা হয়। ছয় মাস পর সেই সহায়তা কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়। এই সহায়তার ওপর আবার ৫ শতাংশ করও দিতে হয় রফতানিকারকদের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে বিকল্প নগদ সহায়তার হার ৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা দেশীয় বস্ত্র ও টেক্সটাইল শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ও কাপড় ব্যবহারে রফতানিকারকরা আরো উৎসাহিত হবেন। ফলে দেশীয় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার বাড়বে এবং রফতানি খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অর্থ বিভাগ এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগকে এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

আরও