লে-অফ কৌশলে যাচ্ছেন ইপিজেডের শিল্প মালিকরা

চলমান নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকিতে দেশের সব গার্মেন্ট কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বিজিএমইএ। ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সব রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধও করেছে বেপজা কর্তৃপক্ষ।

চলমান নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকিতে দেশের সব গার্মেন্ট কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বিজিএমইএ। ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সব রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধও করেছে বেপজা কর্তৃপক্ষ। বন্ধকালীন বা ছুটির সময়ে শ্রমিকদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু শ্রমিক-কর্মচারীদের সুবিধাবঞ্চিত করতে শ্রম আইন অনুযায়ী লে-অফ কৌশলে যাচ্ছে চট্টগ্রামসহ দেশের অধিকাংশ রফতানিমুখী শিল্প গার্মেন্ট কারখানা। এরই মধ্যে সিইপিজেডের ১২টি কারখানাকে বেপজা থেকে লে-অফের অনুমোদনও দেয়া হয়েছে। 

বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) সূত্রে জানা গেছে, নভেল করোনাভাইরাস সংকটের কারণে দেশের শিল্প গার্মেন্টস কারখানাগুলোর বিপুল পরিমাণ রফতানি আদেশ বাতিল হয়। নতুন করে পোশাকের কার্যাদেশ না থাকায় এরই মধ্যে অনেক গার্মেন্টসের কাজ প্রায় শূন্য হয়ে পড়েছে। সরকারি নির্দেশনা মেনে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এরই মধ্যে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সব ইপিজেড সাধারণ ছুটির আওতায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গার্মেন্টসগুলো লে-অফের আবেদন করে। সর্বশেষ শনিবার বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন-২০১৯-এর ১১ ধারা অনুযায়ী সিইপিজেডের ১২টি গার্মেন্টসের লে-অফ অনুমোদন দেয়া হয়। আরো ১২টি কারখানা লে-অফের জন্য আবেদন করেছে। এছাড়া দুটি গার্মেন্টস কারখানার লে-অফ সুবিধা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। লে-অফ থাকাকালীন বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণপ্রাপ্ত হবেন ন্যূনতম এক বছর কাজ করা শ্রমিক-কর্মচারীরা। সিইপিজেড ছাড়াও দেশের আটটি ইপিজেড ইপিজেডবহির্ভূত কারখানাগুলো লে-অফ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

১১ এপ্রিল সিইপিজেডের শ্রীলংকার মালিকানাধীন কেনপার্ক রিজেন্সি গার্মেন্টসের শ্রমিক-কর্মচারীদের কাছে আসা মোবাইলের ক্ষুদে বার্তায় বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত কার্যাদেশ না থাকার পরিপ্রেক্ষিতে এবং সংশ্লিষ্ট সংকটের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনাপূর্বক এতদ্বারা কেনপার্ক রিজেন্সির সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, কেনপার্ক রিজেন্সির সব কারখানা/ইউনিট ১২ এপ্রিল থেকে ১১ মে পর্যন্ত লে-অফ ঘোষণা করা হলো। লে-অফ চলাকালীন কারখানায় উপস্থিতির প্রয়োজন নেই। শ্রমিক-কর্মচারীদের যাবতীয় পাওনা ইপিজেড শ্রম আইন ২০১৯-এর ধারা ১৫ অনুসারে যথাসময়ে প্রদান করা হবে।

এর আগে গত এপ্রিল থেকে সিইপিজেডের আরেক শ্রীলংকান মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইউনিভোগ গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেড ৪১ দিনের জন্য তাদের মালিকানাধীন কারখানা লে-অফ ঘোষণা করে। শ্রম আইনে লে-অফের ক্ষতিপূরণ হিসেবে মূল বেতনের অর্ধেকের পাশাপাশি বাড়িভাড়ার পুরো অংশ পাবে শ্রমিকরা। একই সঙ্গে বোনাসও পাবে পুরোটাই। তবে আনুষঙ্গিক ভাতা যেমন চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা পাবেন না শ্রমিকরা। এক ক্যালেন্ডার বর্ষে একটানা সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের সঙ্গে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরো ১৫ দিন লে-অফ রাখা যাবে কারখানা। এর পরও সমস্যা থেকে উত্তরণ না হলে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ছাঁটাই করতে পারবে। তবে যেসব শ্রমিক বা কর্মচারীর চাকরির বয়স এক বছর হয়নি, তারা কোনো সুবিধাই পাবেন না।

জানতে চাইলে বেপজার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) নাজমা বিনতে আলমগীর বণিক বার্তাকে বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় অনেক কারখানা লে-অফের সুবিধা চাইছে। ইপিজেডের কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণার আগেই অনেক কারখানা লে-অফের অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে। আবেদন বিবেচনায় অনেক কারখানাকে অনুমোদনও দেয়া হয়েছে। তবে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বেপজা শ্রমিকদের স্বার্থকে সবার আগে দেখছে।

তিনি আরো জানান, ১১ এপ্রিল দেশের আটটি ইপিজেডে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইপিজেডগুলোতে চালু ৪৪৭টি কারখানার মধ্যে ৩০৮টি কারখানা এরই মধ্যে মার্চ মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধ করেছে। ৩৪টি কারখানা ১২ এপ্রিল বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করেছে। এছাড়া বাকি কারখানা ১৬ এপ্রিলের মধ্যে ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করবে।

 

 

আরও