ফলে চলতি মৌসুমে কোকোর ফলন ও মান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দেশটির কৃষকরা। সম্প্রতি স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, চলমান এ শুষ্ক আবহাওয়া মার্চ-আগস্ট পর্যন্ত স্থায়ী ‘মিড-ক্রপ’ বা মধ্য-মৌসুমের উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। খবর রয়টার্স।
আইভরি কোস্টে সাধারণত এপ্রিল-নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বর্ষাকাল। বর্তমানে দেশটিতে কোকো সংগ্রহের কাজ পুরোদমে চললেও কৃষকরা বলছেন, মে মাসের শেষ পর্যন্ত সময়টি গাছের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে কোকো বিনের আকার ছোট হয়ে যায় এবং গুণমান নষ্ট হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে কোকো উৎপাদনকারী প্রধান অঞ্চলগুলোয় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম।
পশ্চিমাঞ্চলীয় সুব্রে এলাকায় গত সপ্তাহে মাত্র ১০ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে ১২ দশমিক ৬ মিলিমিটার কম। এছাড়া ডালোয়া ও ইয়ামুসুক্রোর মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোয়ও বৃষ্টির অভাবে ছোট কোকো পডগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার অভাবে এ সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে।
কৃষকদের আশঙ্কা, যদি দ্রুত ভারি বৃষ্টিপাত শুরু না হয়, তবে কোকোর উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। কোকো সরবরাহের ঘাটতির প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারেও পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বৈশ্বিক চকোলেট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো পশ্চিম আফ্রিকার এ পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। আইভরি কোস্টের এ আবহাওয়া পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোয় বিশ্ববাজারে কোকোর দাম বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।