জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্বজুড়ে এখন জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধের রব উঠেছে। প্রকৃতিকে বাঁচাতে সব দেশের, সব দলের, সব মতের মানুষই অন্তত এ বিষয়ে একমত হয়েছেন, জলবায়ুর ক্ষতিকর পরিবর্তন রোধে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে।

বিশ্বজুড়ে এখন জীবাশ্ম জ্বালানি বন্ধের রব উঠেছে। প্রকৃতিকে বাঁচাতে সব দেশের, সব দলের, সব মতের মানুষই অন্তত এ বিষয়ে একমত হয়েছেন, জলবায়ুর ক্ষতিকর পরিবর্তন রোধে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনতে হবে। বিশ্বের সম্পদশালী দেশগুলোও এ জ্বালানি বন্ধে নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দিয়েছে। একইভাবে সব ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে নিজেদের সরিয়ে আনার কথা জানিয়েছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসক লরেন্স ব্যাকাও নিজেই এ ঘোষণা দিয়েছেন। খবর এপি।

প্রতিষ্ঠানটির ৪ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সম্পদের দেখাশোনা করে হার্ভার্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। তারা এরই মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে দিয়েছে এবং যেসব প্রতিষ্ঠানের জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ আছে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ রাখছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রেসিডেন্ট লরেন্স ব্যাকাওয়ের দেয়া বার্তায় এসব কথা বলা হয়েছে।

জীবাশ্ম জ্বালানি খাতের বেশ কয়েকটি শিল্পে দীর্ঘদিন ধরেই পরোক্ষভাবে বিনিয়োগ করে আসছিল বিশ্ববিদ্যালয়। ব্যাকাও বলছেন, এসব বিনিয়োগের পরিমাণ তাদের প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের ২ শতাংশেরও কম। তবে ২০১৯ সালের পর থেকে এসব ব্যবসার অংশীদারদের নতুন কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়নি। এমনকি তাদের সঙ্গে সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদি করারও আর কোনো পরিকল্পনা নেই।

তিনি আরো বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে তাদের গোটা বিনিয়োগ পোর্টফোলিও থেকে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। আর সে লক্ষ্যেই এখন কাজ চলছে।

ওয়েবসাইটে প্রেসিডেন্টের বরাতে লেখা হয়েছে, অর্থনীতি থেকে কার্বন নিঃসরণ পুরোপুরি বন্ধ করা সবার দায়িত্ব। আমাদের এমন সব দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করা উচিত, যেগুলো আমাদের শিক্ষা ও গবেষণার লক্ষ্যকে সমর্থন করে।

তবে একদিনে হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়নি। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও এ খাতে বিনিয়োগ বন্ধে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন আন্দোলন করতে হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টিতে সম্মত হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এখন বিনিয়োগের নতুন পোর্টফোলিও তৈরি করা হচ্ছে, যেটি গ্রিন ইকোনমি বা পরিবেশবান্ধব অর্থনীতির পথে যাওয়ার ক্ষেত্রকে সহায়তা করবে।

প্রেসিডেন্ট ব্যাকাও বলেছেন, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির সঙ্গে মিলে তারা নতুন ধরনের ইঞ্জিনের ওপর বিনিয়োগ করছেন। এমন একটি তহবিল গঠন করা হচ্ছে, যেটি অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে জলবায়ুর পরিবর্তনের জন্য সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলার জন্য কাজ করবে এমন প্রযুক্তির বিকাশে সাহায্য করবে।

পাশাপাশি গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর কাজে আরো বেশি স্বচ্ছতার পরিচয় দেবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ব্যাকাও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চাহিদাগুলো মেটাতে হলে আমাদের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে মিলে কাজ অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি শিল্প খাতের সঙ্গেও কাজ করতে হবে।

আরও