দেশটির পরিসংখ্যান ব্যুরোর দেয়া তথ্যানুযায়ী, জানুয়ারি-জুন সময়ে মোট চাল উৎপাদন ১ কোটি ৯৩ লাখ টনে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
সামগ্রিক উৎপাদন বাড়লেও এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ফলন কিছুটা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, বছরের দ্বিতীয় এ প্রান্তিকে চাল উৎপাদন হতে পারে ৯ লাখ ৬১ হাজার টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ কম। মূলত বছরের প্রথম কয়েক মাসের ভালো ফলন দ্বিতীয় প্রান্তিকের সম্ভাব্য ঘাটতি পুষিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বর্তমানে চালের এ উৎপাদন পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। কারণ দেশটিতে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে জলবায়ু পরিস্থিতি ‘এল নিনো’।
গত এপ্রিলে শুরু হওয়া এ আবহাওয়ার প্রভাবে এ বছর দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র খরা দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এল নিনোর প্রভাবে সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাপমাত্রা বাড়ে এবং বৃষ্টিপাত কমে যায়, যা সরাসরি কৃষি খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বছরের প্রথম ভাগে উৎপাদনের পূর্বাভাস ইতিবাচক হলেও এল নিনোর প্রভাবে বছরের পরবর্তী সময়ের ফলন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ২৭ কোটির বেশি মানুষের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় চাল প্রধান খাদ্যশস্য। ফলে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন স্থিতিশীল রাখা দেশটির সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রলম্বিত এ খরা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে এরই মধ্যে দেশটির সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। বিশেষ করে পানি ও সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। দেশটির পণ্যবাজারে চাল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারি পর্যায় থেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। এল নিনোর তীব্রতা বাড়লে চালের বৈশ্বিক বাজারেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।