জরুরি অবস্থা আরো দীর্ঘায়িত করার সিদ্ধান্ত জাপানের

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণে সর্বশেষ ঝড় মোকাবেলায় অর্থনৈতিক বিধ্বস্ততার মধ্যেও চলমান জরুরি অবস্থা আরো এক মাস দীর্ঘায়িত এবং বড় বড় মেট্রো অঞ্চলে প্রসারিত করার পরিকল্পনা করছে জাপান।

নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণে সর্বশেষ ঝড় মোকাবেলায় অর্থনৈতিক বিধ্বস্ততার মধ্যেও চলমান জরুরি অবস্থা আরো এক মাস দীর্ঘায়িত এবং বড় বড় মেট্রো অঞ্চলে প্রসারিত করার পরিকল্পনা করছে জাপান। গতকাল সংসদের নিম্নকক্ষ জরুরি আদেশ লঙ্ঘনে জরিমানার বিষয়টি অনুমোদন করেছে। ফলে নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুত বন্ধ না করলে বার রেস্তোরাঁগুলোকে জরিমানার মুখে পড়তে হবে। আইনটি সপ্তাহের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিদে সুগার জোট নিয়ন্ত্রিত সংসদের উচ্চকক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবর ব্লুমবার্গ।

টোকিও, ওসাকা, নাগোয়াসহ ১১টি অঞ্চলজুড়ে জরুরি অবস্থা দেশটিতে সংক্রমণ রুখে দিতে সহায়তা করেছে। ফলে সংক্রমণের সংখ্যা কমে যেতে শুরু করেছে। যদিও সুগার সরকার বলেছে, সংক্রমণের সংখ্যা এখনো উদ্বেগজনক বেশি রয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সরকার ফেব্রুয়ারি শেষ হতে যাওয়া পূর্বে ঘোষিত জরুরি অবস্থা আরো এক মাস বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এছাড়া অবস্থার উন্নতি হওয়ায় জরুরি অবস্থার তালিকা থেকে তোচিগি প্রদেশের নাম বাদ দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নাগরিকদের বাড়ি থেকে কাজ করার অনুরোধসহ জাপানের বর্তমান ব্যবস্থাগুলো ইউরোপীয় দেশগুলোর লকডাউনের তুলনায় কম কঠোর। একটি ধীরগতির পুনরুদ্ধার দিয়ে বছর শুরুর পরিবর্তে ইউরোপের কয়েকটি দেশে দুই অংকের সংকোচনের সম্ভাবনা রয়েছে।

জরুরি অবস্থা প্রসারিত করা ব্যবসায় জন্য ধ্বংসাত্মক প্রভাব নিয়ে আসবে। তবে সুগা যদি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, নেতৃত্বকে টিকিয়ে রাখতে এবং গ্রীষ্মে অলিম্পিক গেমসের আশা জাগিয়ে তুলতে চান, তবে তার সামনে খুব কম বিকল্প রয়েছে।

জরুরি অবস্থার বিষয়টি উল্লেখ করে সুশি রেস্তোরাঁর মালিক মামোরু সুগিয়ামা জানান, ব্যবসার ক্ষয়ক্ষতি বিশাল হবে। নির্দেশনার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে রয়েছে বার রেস্তোরাঁ। ১৩০ বছর ধরে গিনজার টুঙ্কি শপিং জেলায় সেবা দিয়ে আসা তার রেস্তোরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কিছু ব্যবসা এমনিতেই ঋণ নিয়ে চলছে। এর মধ্যে যদি ফেব্রুয়ারি মাসেও জরুরি অবস্থা অব্যাহত থাকে, তাহলে আমার মনে হয় ব্যবসাগুলো একের পর এক দেউলিয়া হয়ে যাবে।

টোকিওভিত্তিক নিক্কেই টিভির একটি সমীক্ষায় জনসাধারণ জরুরি অবস্থা বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে। ২৯-৩১ জানুয়ারিতে চালানো জরিপে ৯০ শতাংশ উত্তরদাতা জরুরি অবস্থা দীর্ঘায়িত করতে সমর্থন করেছেন। সরকার বলেছে, চার ধাপের স্কেলে ছয়টি ডাটা পয়েন্ট ভিত্তিতে জরুরি অবস্থা শেষ হতে পারে।

আরও