যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা ঠেকিয়ে রেখেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগের উল্লম্ফন। যদিও দেশটিতে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার জোর আশঙ্কাও রয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি নিয়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। খবর এফটি।
চলতি বছর শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা থাকলেও, আইএমএফ এখন অনেকটা আশাবাদী। সংস্থাটি ২০২৫ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস জুলাইয়ের প্রাক্কলনের তুলনায় দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত করেছে। ২০২৪ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা ৩ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইএমএফ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ২০২৫ সালে ২ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ২ দশমিক ১ শতাংশ হারে সম্প্রসারিত হবে। এটি ২০২৪ সালের ২ দশমিক ৮ শতাংশের তুলনায় শ্লথ হলেও জি–৭ দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত। এপ্রিলে সংস্থাটির এক প্রাথমিক প্রাক্কলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়েরে-অলিভিয়ে গুরিঞ্চাস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় শক্তিশালী থাকার অন্যতম কারণ হলো এআই ও প্রযুক্তি খাতে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি। এটি আর্থিক পরিস্থিতিকে সহজ করেছে এবং ভোক্তাদের সম্পদ বাড়িয়েছে।’
চলতি বছর এনভিডিয়া, ব্রডকম ও ওরাকলের মতো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম ব্যাপক মাত্রায় বেড়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার ধারাবাহিকভাবে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এআইয়ের সম্ভাব্য উৎপাদনশীলতা নিয়ে বাজারে মনোভাব বদলে গেলে হঠাৎ ধস নামার ঝুঁকিও আছে।
আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘বিনিয়োগ এখনো ডটকম বাবলের সময়কার বিনিয়োগের পর্যায়ে পৌঁছয়নি। তবে আমরা হয়তো এরই মধ্যে সে সময়কার অর্ধেক বা দুই–তৃতীয়াংশ পথ পেরিয়ে এসেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘মানুষ এখন নিজেদের ধনী ভাবছে কারণ শেয়ারমূল্য অনেক বেশি। ফলে ভোগ ও বিনিয়োগ বেড়েছে। কিন্তু বাস্তবে অর্থনীতি এখনো বেশি কিছু উৎপাদন করছে না। গোটা বিষয়টিই ভবিষ্যত নিয়ে ভরসার ওপর টিকে রয়েছে। আর এটিই বিনিয়োগের চাহিদা বাড়াচ্ছে।’
আইএমএফের পর্যবেক্ষণে মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) তুলনায় বাড়তি আশাবাদ উঠে এসেছে। ওইসিডির পক্ষ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি এ বছর ১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
গুরিঞ্চাস আরো বলেন, প্রযুক্তি খাতের এ বিনিয়োগ উল্লম্ফন ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর ক্ষমতা সীমিত করতে পারে।
বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এখন শঙ্কা বাড়াচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমএফ। সংস্থাটির হিসাবে ২০২৫ সালে জি–৭ দেশগুলোর মধ্যে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে যুক্তরাজ্য। চলতি বছর দেশটি ১ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৬ সালেও একই হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে দেশটি।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ অর্থনীতি চীন ৪ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। ২০২৬ সালে এ হার হবে ৪ দশমিক ২ শতাংশ।