মোংলা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) তৈরি পোশাক কারখানা স্থাপনে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানি লিমিটেড। এ কারখানায় বছরে ৬০ লাখ পিস অন্তর্বাস ও ব্রা উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ৩ হাজার ৫ জন বাংলাদেশীর কর্মসংস্থান হবে।
এ বিনিয়োগ উপলক্ষে গতকাল ঢাকায় বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) সঙ্গে ভূমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং লংটেং গার্মেন্ট কোম্পানির চেয়ারম্যান লি কিয়াংকিয়াং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন। এ সময় বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বেপজা জানায়, মোংলা ইপিজেডে ১৬ হাজার ৪২৬ দশমিক ৩৭ বর্গমিটার জমিতে কারখানাটি স্থাপন করা হবে। উৎপাদিত পণ্য বৈশ্বিক ব্র্যান্ড এয়ারি, ক্যালভিন ক্লেইন, জারা, ফ্লোরেন্স অ্যান্ড ফ্রেড (টেসকো), এএসওএস ও প্রাইমার্কের জন্য রফতানি করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে এইচঅ্যান্ডএম, ওয়ালমার্ট, এমঅ্যান্ডএস ও গ্যাপ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, আলজেরিয়া, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, চিলি, মেক্সিকো, ইরাক, জাপান, কানাডাসহ বিভিন্ন বাজারে পণ্য রফতানির পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে স্বাগত জানিয়ে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, ‘বেপজা ও বাংলাদেশের ওপর আস্থা রেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়ায় লংটেং গার্মেন্টকে ধন্যবাদ।’ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সমীর বিশ্বাস, নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) মসিহউদ্দিন বিন মেসবাহ, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এএসএম আনোয়ার পারভেজ এবং অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) ফজলুল হক মজুমদারসহ বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও লংটেং গার্মেন্টের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বেপজার তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোংলা ইপিজেডে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আরো ১০টি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। এ ইপিজেড থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৭০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এখানে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং কর্মসংস্থান হয়েছে ১৬ হাজার ২১২ জন বাংলাদেশীর।