ভয়াবহ বন্যায় থাইল্যান্ডে ডিমের সরবরাহে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের সংকট। দেশটির বন্যাকবলিত এলাকাগুলোয় প্রায় ৩০ লাখ মুরগি মারা গেছে। এতে স্থানীয় বাজারে ডিমের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ডিম রফতানি ৩০-৫০ শতাংশ কমানোর জন্য কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার। খবর নিক্কেই এশিয়া।
দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত খামারগুলোয় বিপুলসংখ্যক ডিমপাড়া মুরগি মারা গেছে। ফলে ডিমের উৎপাদনও কমে গেছে।’
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একটি চাচোয়েংসাও প্রদেশ। রাজধানী ব্যাংকক থেকে প্রায় দুই ঘণ্টার দূরত্বে প্রদেশটির অবস্থান। সেখানকার বন্যাকবলিত ডিমের খামারগুলোয় প্রায় ৩০ লাখ মুরগি মারা গেছে বলে জানান দেশটির অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বিভাগের উপমহাপরিচালক জিরাউথ সুওয়ান্না-আরজ।
ডিমের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এখন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এমন এলাকাগুলোয় জরিপ চালানো হচ্ছে। এসব এলাকা থেকে ডিম সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডিমপাড়া মুরগির উৎপাদনকালও বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার।
সাধারণত একটি মুরগিকে ৮০ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত ডিম উৎপাদনে রাখা হয়। সরবরাহ ধরে রাখতে এ সময় ৮৫ সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বিভাগ।
ডিমের দাম নিয়েও সতর্ক রয়েছে থাই সরকার। অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বিভাগ ডিম উৎপাদক সমিতি ও বড় খামারগুলোকে প্রতি ডিমের দাম ৪ বাথ বা প্রায় ১২ সেন্টে রাখার অনুরোধ করেছে। একই সঙ্গে ডিম সংগ্রহকারীদের বন্যামুক্ত এলাকা থেকে ডিম সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।
থাইল্যান্ডের বাজারে ডিম রফতানির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর প্রায় ১৭০ কোটি বাথ বা ৫ কোটি ডলারের ডিম রফতানি করেছে থাইল্যান্ড। এর বড় অংশই গেছে সিঙ্গাপুরে। মোট রফতানির ৭৯ শতাংশ ডিম নিয়েছে দেশটি। হংকংয়ে গেছে ৯ শতাংশ।