বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বস্ত্র শিল্পে মন্দা

অর্থনৈতিক অঞ্চলের জমি ফেরত দিতে চায় ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস পিএলসি মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত ন্যাশনাল স্পেশাল ইকোনমিক জোনে বরাদ্দ পাওয়া ১০ একর জমি ফেরত দিতে চায়।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ও বস্ত্র শিল্পের মন্দা বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি। ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় এ জমি পুনরায় গ্রহণ করতে পারে ম্যাকসন্স স্পিনিং। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

২০২০ সালে অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে মেট্রো স্পিনিং মিলস লিমিটেড, ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস ও ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস (ইউনিট-২) মোট ৩০ একর জমি বরাদ্দ পায়, যেখানে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ১০ একর করে জমি। সে সময় অঞ্চলটিতে ১১ কোটি ডলার বিনিয়োগের কথা জানায় ম্যাকসন্স গ্রুপ।

চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) ম্যাকসন্স স্পিনিংয়ের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪ টাকা ৬১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৮৭ পয়সা। ৩১ জুন ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৬৭ পয়সায়।

সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ম্যাকসন্স স্পিনিংয়ের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৯ টাকা ৪২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৬৯ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৮৪ পয়সায়।

২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে ম্যাকসন্স স্পিনিংয়ের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ৬৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৯৩ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ২৯ পয়সায়।

ম্যাকসন্স স্পিনিংয়ের সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘‌বিবিবি মাইনাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘‌এসটি-৪’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও ১২ নভেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক গুণগত তথ্যের আলোকে এ প্রত্যয়ন করেছে আলফা ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (আলফা রেটিং)।

২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি ম্যাকসন্স স্পিনিংয়ের অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ২৩৮ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ৯৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ২৩ কোটি ৮২ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৮। এর ৩০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫ দশমিক ৩৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৬৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

আরও