বিশ্ববাজারে আবার কমেছে ইস্পাতের দাম। বাজারে মন্দাভাব, রফতানি হ্রাস ও অতিরিক্ত মজুদের কারণে স্টিল রিবারের (ইস্পাতের রড) ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিমূল্য টনপ্রতি প্রায় ৩ হাজার ইউয়ানে নেমে এসেছে, যা তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইস্পাত খাতে মুনাফার হার কমেছে আশঙ্কাজনকভাবে। পাশাপাশি চীনসহ বিশ্ববাজারে নিম্নমুখী চাহিদার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উত্তর চীনের বেশ কয়েকটি প্রদেশে পরিবেশগত বিধিনিষেধের কারণে নতুন করে ধাতু (হট মেটাল) উৎপাদনে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে পরিবেশ-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হলে শিগগিরই উৎপাদন পুনরায় বাড়বে বলে আশা করছেন খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন বিশ্বজুড়ে ইস্পাতের সামগ্রিক চাহিদার প্রাক্কলন সংশোধন করে নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী ইস্পাতের সার্বিক চাহিদা দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। অথচ গত এপ্রিলে সংস্থাটি এ খাতে দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীনে চলতি বছর ইস্পাতের ব্যবহার প্রায় ২ শতাংশ কমতে পারে। দেশটির আবাসন খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলা মন্দা দূর না হওয়াকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে চীনের মন্দা রূপের বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে ভারতে। বড় বাজারগুলোর মধ্যে ভারত বর্তমানে দ্রুতবর্ধনশীল ইস্পাতের বাজার হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। চলতি বছর ভারতে ইস্পাতের চাহিদা ৭ দশমিক ৯ ও ২০২৭ সালে ৮ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা, চীনের সাময়িক বিধিনিষেধ কাটলেও বৈশ্বিক বাজারে দুর্বল চাহিদা আপাতত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।