আইআরসি-প্রধান

ত্রাণসহায়তা হ্রাস বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়াবে

ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকটের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশগুলোর বৈদেশিক সহায়তা কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডেভিড মিলিব্যান্ড।

ব্রিটিশ সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) বর্তমান প্রধান মিলিব্যান্ড সতর্ক করে জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা আরো বাড়বে, যার প্রভাব দরিদ্র ও ধনী উভয় দেশকেই ভোগ করতে হবে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকে বক্তব্য দেয়ার সময় মিলিব্যান্ড বলেন, ‘বর্তমান মার্কিন প্রশাসন তাদের দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক সহায়তা কর্মসূচি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।’ তার মতে, একটি মানবিক সংকটকে অবহেলা করা মানে হলো রাজনৈতিক অস্থিরতাকে উসকে দেয়া। তিনি মনে করেন, আজকের বিশ্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি সংযুক্ত। তাই এক অঞ্চলের অস্থিরতা দ্রুত অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

মিলিব্যান্ড যুক্তরাজ্যের বর্তমান সরকারের এ বাজেট হ্রাসের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ‘বিশ্বের দরিদ্রতম মানুষের পাশে দাঁড়ানো কেবল নৈতিক দায়িত্বই নয়, বরং এটি ব্রিটেনের জন্য একটি ভালো বিনিয়োগ।’ তিনি উল্লেখ করেন, বৈদেশিক সহায়তা কমলে বিশ্বে মৃত্যুর হার ও বিশৃঙ্খলা বাড়ার সরাসরি প্রমাণ রয়েছে। সাহায্য কমিয়ে দেয়ায় বিশ্বের স্থিতিশীলতা রক্ষায় পশ্চিমা দেশগুলোর যে সক্ষমতা ছিল, তা দুর্বল হয়ে পড়ছে।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের শিকার হতে পারে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি ও সারের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যাকে মিলিব্যান্ড একটি ‘খাদ্যনিরাপত্তা টাইমবম্ব’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফলে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক খাদ্য সংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উন্নত দেশগুলো যখন প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে, ঠিক সে সময় ওএসডির তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে ধনী দেশগুলো তাদের সাহায্য বরাদ্দ প্রায় ২৫ শতাংশ কমিয়েছে। মিলিব্যান্ডের মতে, যুক্তরাষ্ট্র তার ‘গ্লোবাল অ্যাংকর’ বা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার স্তম্ভ হিসেবে যে ভূমিকা পালন করত, তা থেকে বেরিয়ে আসা একটি ঐতিহাসিক ভুল সিদ্ধান্ত। এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বিশ্ব অর্থনীতি আগামী দিনে আরো ভয়াবহ ধাক্কার সম্মুখীন হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

আরও