যুক্তরাজ্যের নতুন ব্যাংকনোটে ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের পাশাপাশি এবার গুরুত্ব পাচ্ছে দেশটির বন্যপ্রাণী। ৫, ১০, ২০ ও ৫০ পাউন্ডের নতুন নোটে বাম্বলবি (মৌমাছি), বার্ন আউল (পেঁচা), আটলান্টিক পাফিন ও ইউরোপীয় হেজহগের ছবি রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জনসাধারণের ভোটের ভিত্তিতে প্রাণীগুলো নির্বাচন করেছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
এর আগে গত জুনে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড নতুন ব্যাংকনোটের জন্য বন্যপ্রাণীদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা বা শর্টলিস্ট প্রকাশ করে। এরপর জনসাধারণের মতামত নেয়া হয়। তালিকার ১৮টির মধ্য থেকে পছন্দের প্রাণী বেছে নেয়ার সুযোগ দেয়া হয় তাদের। এসব প্রাণী তিনটি ভাগে বিভক্ত ছিল।
পোকামাকড়, মাছ ও উভচর প্রাণীর বিভাগে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে বাফ-টেইলড বাম্বলবি। পাখির বিভাগে শীর্ষে ছিল বার্ন আউল। স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে ইউরোপীয় হেজহগ। যুক্তরাজ্যের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করতে তালিকায় রাখা হয়েছে আটলান্টিক পাফিনকেও।
তবে কোন প্রাণীর ছবি কোন নোটে থাকবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। নতুন নোটে ৫, ১০, ২০ ও ৫০ পাউন্ডের নোট থাকবে। এগুলোর এক পাশে রাজা তৃতীয় চার্লসের ছবি থাকবে আগের মতোই। নতুন নকশা তৈরি ও নোট বাজারে আনতে আরো কয়েক বছর লাগতে পারে বলে জানায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ড।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির প্রধান ক্যাশিয়ার ভিক্টোরিয়া ক্লিল্যান্ড বলেন, ‘ব্যাংকনোটের জন্য বন্য প্রাণীর ছবি বাছাইয়ের পরামর্শ প্রক্রিয়ায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন।’
বিশ্লেষকদের মতে, আটলান্টিক পাফিনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর বিভিন্ন রঙের ঠোঁট। জীবনের বেশির ভাগ সময় সাগরে কাটায় পাখিটি। গ্রীষ্মে তারা উপকূলের দ্বীপগুলোয় ফিরে যায়। সেখানে বাসা তৈরি করে মাটির গর্ত করে। ফার্ন দ্বীপপুঞ্জ ও লান্ডির মতো দ্বীপে এদের দেখা যায়। সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাজ্যে আটলান্টিক পাফিনের সংখ্যা কমছে। এ কারণে প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএনের বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় পাখিটিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে।
নতুন ব্যাংকনোটে ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের পরিবর্তে বন্যপ্রাণীর ছবি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত অবশ্য বিতর্ক তৈরি করেছিল। গত মার্চে সিদ্ধান্তটি প্রথম জানানো হলে এর সমালোচনা করেন যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বেডেনক। তিনি জানান, এর মাধ্যমে ব্রিটেনের ইতিহাস মুছে ফেলা হচ্ছে। তিনি এ সিদ্ধান্তকে ‘অর্থহীন’ বলেও মন্তব্য করেন।
রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজও তখন সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেন। লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের নেতা এড ডেভিও এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন।