২০২২-২৩ অর্থবছরের সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে ৫৪ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সম্মাননা ও সম্মাননাপত্র দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)। গতকাল এনবিআরের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে এনবিআর সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) সৈয়দ মোহাম্মদ আবু দাউদ ও এলটিইউর কর কমিশনার মো. ইকবাল বাহার সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
ব্যাংকিং ক্যাটাগরিতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ, ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন, প্রাইম ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, দি প্রিমিয়ার ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ঢাকা ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, এবি ব্যাংক ও যমুনা ব্যাংককে সম্মাননা দেয়া হয়।
অ-ব্যাংকিং আর্থিক খাতে ইডকল, আইডিএলসি ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড, ডিবিএইচ ফাইন্যান্স ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ সম্মাননা পেয়েছে।
সম্মাননাপ্রাপ্ত বীমা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো হলো আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, সাধারণ বীমা করপোরেশন, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স। টেলিকমিউনিকেশন ক্যাটাগরিতে রয়েছে গ্রামীণফোন লিমিটেড আর সেবা ক্যাটাগরিতে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রকৌশল ক্যাটাগরিতে বিএসআরএম লিমিটেড, বিএসআরএম স্টিলস ও র্যাংগস লিমিটেড, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক ক্যাটাগরিতে নেসলে বাংলাদেশ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ট্রান্সকম বেভারেজ ও নিউজিল্যান্ড ডেইরি প্রডাক্টস বাংলাদেশ সম্মাননা পেয়েছে।
জ্বালানি খাতে তিতাস গ্যাস ও শেভরন বাংলাদেশ ব্লকস থার্টিন অ্যান্ড ফোর্টিন লিমিটেড, স্পিনিং অ্যান্ড টেক্সটাইল খাতে স্কয়ার টেক্সটাইলস ও কোটস বাংলাদেশ, ওষুধ ও রসায়ন খাতে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, প্রিন্ট অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া ক্যাটাগরিতে মিডিয়াস্টার লিমিটেড এবং চামড়া শিল্পে বাটা সু কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড ও এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড এ সম্মাননা পেয়েছে।
বৃহৎ করদাতা ইউনিটের কর কমিশনার মো. ইকবাল বাহার সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আয়কর অনুবিভাগে বৃহৎ করদাতা ইউনিটের হিস্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এটা সম্ভব হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আন্তরিক সহযোগিতার কারণে। এর প্রতিফলন জাতীয় পর্যায়েও দেখতে পারছি। জাতীয় পর্যায়ে ট্যাক্স কার্ডেও এলটিইউ থেকে এ বছর ৩৭ জনের নাম রয়েছে।’
এলটিইউর সম্মানজনক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের সহায়তা চেয়েছেন ইকবাল বাহার। ব্যবসায়ীদের অবিতর্কিত বকেয়া পরিশোধ ও বিতর্কিত বকেয়া এডিআরের মাধ্যমে নিষ্পন্ন করতে এলটিইউর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।
ইকবাল বাহার বলেন, ‘গত অর্থবছরে শুধু জুনে এডিআরের মাধ্যমেই ৯১৫ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে আনতে সক্ষম হয়েছে এলটিইউ। এছাড়া উৎসে কর কাটা ও পিএসআরের বিধান সঠিকভাবে পরিপালন হচ্ছে কিনা তা নজরে রাখতে হবে।’