সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পিএমআই এপ্রিলে

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেক আগে থেকেই সে দেশের অর্থনৈতিক কিংবা বাজার পরিস্থিতি বোঝার জন্য পিএমআই সূচক প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে এ ধারণাটির যাত্রা শুরু হয় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে।

জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছিল দেশের অর্থনীতি। সেসময় দেশের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি বোঝার অন্যতম সূচক পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) সূচকটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছে যায়। ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ধীরে ধীরে উন্নত হতে থাকে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। এরপর জানুয়ারি মাসে সর্বোচ্চ ৬৫ দশমিক ৭-এ পৌঁছায় পিএমআই। তবে এরপরই আবারো কমতে থাকে এ সূচকের মান। সর্বশেষ এপ্রিল মাসের পিএমআই দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ৯ পয়েন্টে। এ মানটি গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। বৃহস্পতিবার (৮ মে) গত মাসের পিএমআই প্রকাশ করা হয়।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেক আগে থেকেই সে দেশের অর্থনৈতিক কিংবা বাজার পরিস্থিতি বোঝার জন্য পিএমআই সূচক প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে এ ধারণাটির যাত্রা শুরু হয় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) যৌথভাবে এ সূচক প্রকাশ করা শুরু করে। যদিও ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসেই দেশের পিএমআই পরিমাপ করা শুরু করে তারা।

দেশের অর্থনীতির প্রধান চারটি খাত—কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা খাতের ওপর জরিপ চালিয়ে এ পিএমআই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ১০০-এর মধ্যে পরিমাপ করা এ পিএমআই সূচকটি ৫০-এর নিচে হলে দেশের অর্থনীতি সংকোচন ও ৫০-এর বেশি হলে সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে বলে বোঝানো হয়।

পিএমআই প্রকাশ শুরু হওয়ার পর জুলাই মাসে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছার ইঙ্গিত দেয় সূচকটি। আন্দোলন চলাকালীন সে মাসের পিএমআই দাঁড়ায় ৩৬ দশমিক ৯ পয়েন্টে। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে। টানা তিন মাস ধরে সংকোচনের ধারায় চলার পর অক্টোবর মাসে প্রথম সম্প্রসারণের ধারায় ফিরে দেশের অর্থনীতি। এরপর জানুয়ারি মাসে সর্বোচ্চ ৬৫ দশমিক ৭-এ পৌঁছানোর পর আবারো কমতে থাকে এ পিএমআইয়ের মান। সর্বশেষ এপ্রিল মাসে আগের মাসের তুলনায় ৮ দশমিক ৮ পয়েন্ট কমে ৫২ দশমিক ৯-এ দাঁড়িয়েছে পিএমআই পয়েন্ট।

তবে পয়েন্ট কমলেও পিএমআই সংজ্ঞা অনুযায়ী এখনো সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে দেশের অর্থনীতি। এক্ষেত্রে ধীরগতির সম্প্রসারণ হচ্ছে বলে দাবি করছে পিএমআই প্রতিবেদন প্রস্তুতকারকরা।

উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা খাতে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে পিএমআই। শুধুমাত্র কৃষি খাতে আগের মাসের তুলনায় এপ্রিলে ৪ দশমিক ৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে সূচকটি। বিপরীতে উৎপাদন খাতে কমেছে ১২ দশমিক ৫ পয়েন্ট, নির্মাণ ও সেবা কমেছে যথাক্রমে ২ দশমিক ৩ ও ১১ পয়েন্ট করে।

পিএমআই মান কমার পেছনে ট্রাম্পের শুল্কারোপ ও ঈদুল ফিতরের ছুটিকে কারণ হিসেবে দেখছেন পিএমআই প্রস্ততকারক সংস্থা পিইবির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. এম মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক পিএমআই সূচকটি দেশের প্রধান অর্থনৈতিক খাতগুলো সম্প্রসারণ ধারায় চলার ইঙ্গিত দিলেও তা ধীর গতিতে হচ্ছে। অক্টোবরে সম্প্রসারণ ধারা শুরু হওয়ার পর এ মাসে সর্বনিম্ন পয়েন্ট নির্দেশ করছে দেশের অর্থনীতি। দীর্ঘ ছুটির কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা, পোশাক খাতে ট্রাম্পের শুল্কের প্রাথমিক প্রভাব এবং জ্বালানি সরবরাহ সমস্যাই এ ধীর গতি সৃষ্টির সম্ভাব্য কারণ।

আরও