চীনে উৎপাদন কমে যাওয়ায় গত মার্চে বিশ্বজুড়ে ইস্পাত উৎপাদন ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোয় উৎপাদন কমলেও ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বিশেষ করে প্রধান ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে ভারত বর্তমানে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেসলাইন।
ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএসএ) সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের ৬৯টি দেশে মার্চে মোট ১৫ কোটি ৯৯ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। এ দেশগুলো বিশ্ববাজারের প্রায় ৯৮ শতাংশ ইস্পাত উৎপাদন করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার উৎপাদনের এ হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
ইস্পাত উৎপাদনের এ নিম্নমুখিতার প্রধান কারণ চীন। বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশটিতে মার্চে উৎপাদন ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৮ কোটি ৭০ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) চীনে উৎপাদন ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চীনে অভ্যন্তরীণ চাহিদার ঘাটতি থাকায় বিশ্ববাজারের সার্বিক উৎপাদনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বিশ্বের অনেক অঞ্চলে উৎপাদন কমলেও ভারতের চিত্র একদম ভিন্ন। মার্চে দেশটির ইস্পাত উৎপাদন ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৫৩ লাখ টনে পৌঁছেছে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির প্রবৃদ্ধি ছিল ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। এর মাধ্যমে প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় ভারত নিজের অবস্থান আরো শক্ত করেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত উৎপাদন ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৭২ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া জার্মানি ও তুরস্কেও উৎপাদনের হার যথাক্রমে ৭ দশমিক ৫ ও ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় ইস্পাত উৎপাদনে বড় ধরনের ধস নেমেছে। সেখানে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বে মোট ৪৫ কোটি ৯২ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৩ শতাংশ কম। মূলত বিশ্বজুড়ে ইস্পাতের চাহিদায় স্থবিরতা ও প্রধান বাজারগুলোয় সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে উৎপাদনের এ সামগ্রিক পতন ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।