৯টা-৫টার কর্মসংস্কৃতি বদলে যাচ্ছে, বিশ্বে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘মাইক্রোশিফটিং’

প্রথাগত সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টার অফিস সূচি এখন বৈশ্বিক কর্মসংস্কৃতিতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

বর্তমান সময়ের তুলনামূলক কম বয়সী কর্মীরা এখন একটানা ৮ ঘণ্টা কাজ করার চেয়ে সারা দিন ধরে ছোট ছোট ভাগে কাজ সম্পন্ন করতে বেশি আগ্রহী। কর্মসংস্থানের এ নতুন ধারার নাম দেয়া হয়েছে ‘মাইক্রোশিফটিং’। পদ্ধতিটিতে কাজের নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে উৎপাদনশীলতা ও কাজের গুণমানকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

সৃজনশীল সেবা সংস্থা শিয়ার হ্যাভকের সহপ্রতিষ্ঠাতা জেন মিগান এ পদ্ধতির অন্যতম উদাহরণ। তিনি ভোরে পরিবারের অন্য সদস্যরা জাগার আগেই ল্যাপটপ নিয়ে বসেন। এরপর সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দেয়া বা বাজারের মতো ব্যক্তিগত কাজ সেরে আবার কাজে ফেরেন। মিগান বলেন, ‘কখনো কখনো কাজের ফাঁকে বিরতি নিলে মাথায় সেরা আইডিয়াগুলো আসে। শুধু ল্যাপটপের সামনে বসে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে সবসময় সৃজনশীল কিছু বের হয় না।’

মাইক্রোশিফটিং মূলত এমন এক নমনীয় কাজের সূচি, যেখানে কর্মীরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন ছোট ছোট তবে অত্যন্ত কার্যকর সময়ের ভাগে। এতে কাজের ফাঁকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজন মেটানো সহজ হয়। বিশেষ করে করোনা মহামারীর পর থেকে ঘরে বসে বা অফিস ও ঘরের সমন্বয়ে কাজের সুযোগ বাড়ায় এ প্রবণতা আরো জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটির কস্টেলো কলেজ অব বিজনেসের অধ্যাপক কেভিন রকমার্ন বলেন, ‘ম্যানেজার ও প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কর্মীদের নিজেদের মতো করে কাজ করার সুযোগ দিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। যখন কেউ কোনো নির্দিষ্ট কাজ নিয়ে একটানা না ভেবে বিরতি নেয়, তখনই তার মাথায় সবচেয়ে ভালো বুদ্ধি বা চিন্তাগুলো আসে।’

এ পদ্ধতির কিছু নেতিবাচক দিকও আছে। ওকলাহোমা কমিউনিটি কেয়ার পার্টনারসের সাবেক পরিচালক শেলি গ্যারেট বলেন, ‘মাইক্রোশিফটিং কর্মীদের সুখী ও কাজের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। তবে এতে জরুরি প্রয়োজনে সবাইকে একসঙ্গে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আবার অনেক কর্মী মনে করেন, কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময় না থাকায় তারা সারাক্ষণই কাজের মধ্যে আটকে আছেন।’

ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক রিমোট স্টাফিং প্রতিষ্ঠান অফিস বিকনের সিইও প্রণব দালাল বলেন, ‘অনেক সময় কর্মীরা ব্যক্তিগত কাজে বেশি সময় দিলে দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। তাই এ পদ্ধতির সাফল্যের চাবিকাঠি হলো কাজের মান ঠিক রাখা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখা।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোশিফটিং বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এপি অবলম্বনে

আরও